রাজধানী ঢাকার বিজয় সরণি মোড়ে গতকাল বুধবার (১০ জুন, ২০২৬) মধ্যরাতে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় ইয়াকুব আলী (৫০) নামের এক ব্যক্তি প্রাণ হারিয়েছেন। পেশায় বিদ্যুৎমিস্ত্রি ওই ব্যক্তি কর্মস্থল থেকে রাইড শেয়ারিংয়ের মোটরসাইকেলে চড়ে মিরপুরের বাসায় ফেরার পথে একটি দ্রুতগতির মাইক্রোবাসের ধাক্কায় গুরুতর আহত হন। পরবর্তীতে তাঁকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গভীর রাতে তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মেগা সিটির অন্যতম ব্যস্ত এই ইন্টারসেকশনে মধ্যরাতের ট্রাফিক আইন অমান্য ও অনিয়ন্ত্রিত গতির কারণেই এই প্রাণহানি ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
নিহতের পারিবারিক সূত্র ও পুলিশ জানায়, ইয়াকুব আলী ঢাকার পোস্তগোলা ব্রিজ এলাকায় তাঁর পেশাগত কাজ শেষ করে পল্লবীর ভাড়া বাসার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন। মোটরসাইকেলের পেছনে আরোহী হিসেবে বসা অবস্থায় বিজয় সরণি সিগন্যালে পৌঁছালে একটি অজ্ঞাত মাইক্রোবাস পেছন থেকে তাঁদের তীব্র গতিতে ধাক্কা দেয়। দুর্ঘটনার পর মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে মাইক্রোবাসের চালক নিজেই গুরুতর আহত ইয়াকুব আলীকে উদ্ধার করে প্রথমে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে খবর পেয়ে নিহতের স্বজনেরা কুর্মিটোলা থেকে তাঁকে স্থানান্তরিত করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের দায়িত্বরত পরিদর্শক মো. ফারুক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, হাসপাতালে আনার পর জরুরি চিকিৎসা শুরু হলেও মাথায় ও শরীরের বিভিন্ন অংশে মারাত্মক আঘাত লাগার কারণে রাত সোয়া দুইটার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক ইয়াকুব আলীকে মৃত ঘোষণা করেন। আইনি প্রক্রিয়া ও ময়নাতদন্তের জন্য নিহতের মরদেহ বর্তমানে হাসপাতালের মর্গে সংরক্ষণ করা হয়েছে। ঢামেক পুলিশ ফাঁড়ির পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট কাফরুল থানাকে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়েছে, যাতে তারা ঘাতক যানটি শনাক্ত এবং আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে নিহতের ছেলে মানিক ইয়াসিন গণমাধ্যমকে জানান, তাঁর বাবা পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন এবং তাঁদের গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার ওলানিয়া গ্রামে। বাবার আকস্মিক এই মৃত্যুতে পুরো পরিবার এখন স্তব্ধ ও দিশেহারা। ঢাকার সড়কে মধ্যরাতে রাইড শেয়ারিং সেবার নিরাপত্তা এবং ভারী যানবাহনের অনিয়ন্ত্রিত গতি রোধে প্রশাসনের কঠোর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন নিহতের স্বজন ও সাধারণ নাগরিকেরা।



