দেশের প্রায় দেড় কোটিরও বেশি মানুষ এই মুহূর্তে তীব্র পুষ্টি ও খাদ্যসংকটের মুখোমুখি। সম্প্রতি প্রকাশিত আন্তর্জাতিক খাদ্য নিরাপত্তাবিষয়ক এক জরিপে দেখা গেছে, চলত বছরের শেষভাগ নাগাদ এই সংকট আরও তীব্র রূপ নিতে পারে, যার প্রভাবে ভুক্তভোগী মানুষের সংখ্যা দাঁড়িয়ে যেতে পারে ১ কোটি ৮১ লাখে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা, বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচিসহ বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং সরকারের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক নীতি-নির্ধারণী অনুষ্ঠানে এই আশঙ্কাজনক চিত্রটি সামনে আনা হয়।
পরিস্থিতির পর্যালোচনায় উঠে এসেছে, ভৌগোলিক ও জলবায়ুগত কারণে পার্বত্য চট্টগ্রাম, হাওরাঞ্চল এবং দক্ষিণ উপকূলীয় জেলার অধিবাসীরা সবচেয়ে কঠিন সময় পার করছেন। একই সঙ্গে কক্সবাজার ও ভাসানচরে অবস্থানরত শরণার্থী জনগোষ্ঠী চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। চলতি বছরের এপ্রিলে অকাল বন্যায় হাওরাঞ্চলের প্রায় ১১ শতাংশ বোরা ধান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং মে মাসে এলপিজি গ্যাসের দাম ৪৮ শতাংশের বেশি বাড়ার মতো বিষয়গুলো সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
কৃষি উৎপাদন হ্রাস পাওয়া এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির ফলে দেশের একটি বড় অংশের পক্ষে পর্যাপ্ত খাবার জোগাড় করা কঠিন হয়ে পড়েছে। সংকট নিরসনে তাৎক্ষণিক জীবন রক্ষাকারী মানবিক সহায়তার পাশাপাশি কৃষিখাতে দীর্ঘমেয়াদি সহনশীলতা বাড়ানোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থার ব্যাঘাত এবং অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে সামনের দিনগুলোতে সাধারণ মানুষের খাদ্য কেনার সক্ষমতা আরও কমে যেতে পারে।
উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে জরুরি ভিত্তিতে দুর্যোগ-সংবেদনশীল সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্প্রসারণ এবং আগাম সতর্কীকরণ কৌশল বাস্তবায়নের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি ও উন্নয়ন সহযোগীদের সমন্বিত পদক্ষেপই পারে প্রান্তিক এই বিপুল জনগোষ্ঠীকে সম্ভাব্য দুর্ভিক্ষতুল্য অবস্থা থেকে রক্ষা করতে।



