গলফ কো-অপারেশন কাউন্সিল (জিসিসি) ভুক্ত দেশগুলোর পরিবর্তিত শ্রমবাজারের চাহিদা মেটাতে বাংলাদেশের দক্ষতা উন্নয়ন ও বৈদেশিয় কর্মসংস্থান কাঠামো পুরোপুরি পুনর্গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন নীতি-নির্ধারক ও খাতের অংশীদারেরা। একই সঙ্গে সনাতন ধারার অদক্ষ জনশক্তি রপ্তানির মানসিকতা থেকে বেরিয়ে এসে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির ওপর জোর দিয়েছেন তারা।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬) ঢাকার হোটেল শেরাটনে অ্যারাইজ বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন আয়োজিত ‘বাংলাদেশ-জিসিসি ওয়ার্কফোর্স অ্যান্ড ইকোনমিক আউটলুক: হিউম্যান ক্যাপিটাল অপারচুনিটিজ, ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট প্রস্পেক্টস’ শীর্ষক এক উচ্চপর্যায়ের সংলাপে এই তাগিদ দেওয়া হয়। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র এবং শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা (প্রতিমন্ত্রী) মাহ্দী আমিন। তিনি বলেন, বিশ্ব শোরগোল ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতামূলক বাজারে কাজের জন্য নতুন নতুন শ্রমবাজারের সন্ধান করা জরুরি। বিশ্ববাজারে বাংলাদেশি নারীদের কাজের সুযোগ বাড়ানোকে বর্তমান সরকার অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে দেখছে।
প্রভাবশালী এই উপদেষ্টা আরও উল্লেখ করেন, অভিবাসন প্রক্রিয়াকে কার্যকর ও টেকসই করতে সরকারি নীতির নীতিগত সহায়তার পাশাপাশি বেসরকারি খাতের শক্ত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। এতে দেশের নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের পথ যেমন সুগম হবে, তেমনই রেমিট্যান্স প্রবাহেও একটি বড় পরিবর্তন আসবে।
সংলাপে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. এস. এম. আমানুল্লাহ। বক্তারা বলেন, সৌদি আরবের ‘ভিশন ২০৩০’, সংযুক্ত আরব আমিরাতের অর্থনৈতিক বৈচিত্র্যায়ন এবং কাতার, কুয়েত ও ওমানের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা এই অঞ্চলে অবকাঠামো, স্বাস্থ্যসেবা, পর্যটন, লজিস্টিকস, প্রযুক্তি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও উৎপাদন খাতে কাজের নতুন দিগন্ত খুলে দিচ্ছে। কেবল অদক্ষ লোক পাঠিয়ে এই সুযোগ কাজে লাগানো সম্ভব নয়; দেশের প্রশিক্ষণ ও শিক্ষা কারিকুলামকে বৈশ্বিক সনদের সঙ্গে দ্রুত মেলাতে হবে।
অ্যারাইজ বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক কানিজ ফাতেমা মূল প্রবন্ধে বলেন, জিসিসি অঞ্চলকে কেবল সাধারণ শ্রমিক পাঠানোর গন্তব্য হিসেবে দেখা ভুল হবে। একে আমাদের দক্ষতা, সেবা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগের কৌশলগত বাজার হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। আগে বিদেশের চাহিদার ধরণ বুঝে সেই অনুযায়ী দেশের তরুণদের প্রশিক্ষণ ও বিশ্বমানের সনদ দিতে হবে, তবেই বৈশ্বিক বাজারে তাদের স্থায়ী সংযোগ তৈরি হবে।



