― Advertisement ―

ভারতের সঙ্গে চুক্তির প্রতিবাদে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনে ছাত্র জোটের বিক্ষোভ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে রেল কানেকটিভিটি বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা চুক্তির প্রতিবাদে পুলিশের বাধা অতিক্রম করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে...

জামায়াত ও এনসিপি’র মধ্যে দুরত্ব বাড়ছে কেন?

নিজস্ব প্রতিবেদক
গণ-অভ্যুত্থানের সময় ও এর পরবর্তীতে জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মধ্যে ঐকমত্য দেখা গিয়েছিল। কিন্তু সম্প্রতি এই দুটি দলের মধ্যে এক ধরনের টানাপোড়েন বা দূরত্ব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কিন্তু কেন?

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও পিআর পদ্ধতিতে সংসদ নির্বাচনসহ বিভিন্ন দাবিতে জামায়াত-এনসিপি-খেলাফত-ইসলামী আন্দোলনসহ আটটি দলের যুগপৎ আন্দোলনের কথা ছিল। গতকাল সোমবার ইসলামী আন্দোলন, খেলাফত মজলিসসহ চারটি দলের সাথে জামায়াতে ইসলামী যুগপৎ আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করলেও সেখানে নেই এনসিপি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, রাজনীতির মাঠ বুঝে আপাতত কিছুটা কৌশলী অবস্থান নিয়েছে এনসিপি। আপাত দৃষ্টিতে যেটিকে দূরত্ব বা টানাপোড়েন মনে হলেও ভোটের সময় ঘনিয়ে আসলে এনসিপির সেই অবস্থানেও পরিবর্তন আসতে পারে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও বিশ্লেষক রাশেদা রওনক খান বলেন, লক্ষ্যের জায়গা এক ছিল, কিন্তু লক্ষ্য অর্জনের পর বিভিন্ন স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় হয় তখন স্বাভাবিকভাবেই দূরত্ব তৈরি হয়।

এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির কয়েকজন নেতা ও দলটির ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো জানিয়েছে, নির্বাচন সংস্কারসহ বেশ কিছু ইস্যুতে বর্তমানে এনসিপির মধ্যেই দুইটি স্পষ্ট ধারা তৈরি হয়েছে।

যে কারণে এখনই জামায়াতের সঙ্গে নির্বাচনি সমঝোতায় যেতে এনসিপিতে আপত্তিও রয়েছে। অন্যদিকে, সংস্কার নিয়ে জামায়াতের কিছু দাবির সাথে এনসিপির মত পার্থক্য থাকায় দলটি জামায়াতের সাথে যুগপৎ আন্দোলনে যাচ্ছে না।

এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব গণমাধ্যমে বলেছেন, সংস্কারের সব দাবিতে একমত না হওয়া ও নির্বাচনি জোট হওয়া নিয়ে নানা অস্পষ্টতা থাকায় আপাতত জামায়াতের সাথে জোটবদ্ধতা নিয়ে এখনো কোন সিদ্ধান্ত নেয় নি এনসিপি।

জামায়াতের সহকারি সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এ বিষয়ে গণমাধ্যমে বলেন, “আমাদের সাথে এনসিপির অনেক দাবিরই মিল রয়েছে। তবে আপাতত তারা কোনো কর্মসূচিতে যাচ্ছে না এটা তারা বলবে”।

এদিকে, এনসিপির একজন সিনিয়র নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “জামায়াতের সাথে জোটবদ্ধ নির্বাচন করে এইবারই ক্ষমতায় যাওয়া যেতো তাহলে আমরা সেটা করতাম। জামায়াতের সাথে ভোট করে যদি বিরোধী দলই হই, তখন দীর্ঘমেয়াদে আমরা রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবো। এটা হলো আমাদের পলিসির জায়গা”।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক রাশেদা রওনক খানের মতে, “এনসিপি একটা নতুন দল। এখানে অনেক ব্লক থেকে তরুণরা এসেছে। তাদের ভিন্ন ভিন্ন মত আছে। মতাদর্শগত জায়গা থেকে অনেকে হয়তো চাইছে না এখনই কোন জোটের সাথে একাত্ম হোক। সেখান থেকে হতে পারে এটা তাদের রাজনৈতিক অবস্থান কিংবা কৌশল”।