নিজস্ব প্রতিবেদক:
ছাত্রদের নতুন দল জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমাবেশ ঘিরে গোপালগঞ্জে সংঘর্ষের ঘটনায় এখন পর্যন্ত চারজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এসব মৃতদেহ গোপালগঞ্জ সদর হাসপাতালে এসেছে ।
নিহত চারজনের মধ্যে দুজন হলেন গোপালগঞ্জ শহরের উদয়ন রোডের বাসিন্দা সন্তোষ সাহার ছেলে দীপ্ত সাহা (২৫) ও কোটালীপাড়ার রমজান কাজী (১৮)। বাকি দুজনের নাম জানা যায়নি।
আজ বুধবার (১৬ জুলাই) সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে এ তথ্য জানান গোপালগঞ্জের ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. জীবিতেশ বিশ্বাস।
তিনি জানান, এখন পর্যন্ত চারজনের মৃতদেহ হাসপাতালে এসেছে। তাঁরা গুলিবিদ্ধ ছিলেন। এছাড়াও তাদের শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে ।
সংঘর্ষের ঘটনায় আহত অনেকে চিকিৎসা নিলেও তাদের সঠিক সংখ্যা এখনো জানা যায়নি।
জানা গেছে : বুধবার বেলা পৌনে ২টার দিকে সমাবেশ শুরুর আগে ২০০ থেকে ৩০০ লোক লাঠিসোঁটা নিয়ে এনসিপির সমাবেশস্থলে যান।
সে সময় মঞ্চের আশপাশে থাকা পুলিশ সদস্যরা সেখান থেকে দ্রুত আদালত চত্বরে ঢুকে পড়েন। একই সময়ে মঞ্চে ও মঞ্চের সামনে থাকা এনসিপির নেতা-কর্মীরাও দৌড়ে সরে যান। ওই সময় হামলাকারীরা মঞ্চের চেয়ার ভাঙচুর করেন, ব্যানার ছিঁড়ে ফেলেন।
যাঁরা হামলা চালান, তাঁরা সবাই আওয়ামী লীগের সমর্থক বলে অভিযোগ করেন এনসিপির নেতা-কর্মীরা। এরপর এনসিপির নেতা-কর্মী ও পুলিশ এক হয়ে ধাওয়া দিলে হামলাকারীরা পালিয়ে যান।
বেলা ২টা ৫ মিনিটে সমাবেশস্থলে পৌঁছান এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, সদস্যসচিব আখতার হোসেন, মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আবদুল্লাহ, মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলমসহ কেন্দ্রীয় নেতারা।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমাবেশ শেষে ফিরে যাওয়ার সময় সড়ক অবরোধ করে কেন্দ্রীয় নেতাকর্মীদের গাড়িবহরে ফের হামলা চালিয়েছে স্থানীয় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। এ ঘটনার পর গোপালগঞ্জে ১৪৪ জারি ধারা জারি করেছে স্থানীয় প্রশাসন।
এদিকে এমন পরিস্থিতিতে সারা বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে ব্লকেড কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।
টিবিএম /জ/রা



