― Advertisement ―

পারভীন হত্যা: খুনি রসু খাঁর মৃত্যুদণ্ড বহাল হাই কোর্টে

চাঁদপুরের পারভীন হত্যা মামলায় আলোচিত খুনি রসু খাঁর মৃতুদণ্ড বহাল রেখেছে হাই কোর্ট।মঙ্গলবার বিচারপতি সৈয়দ মো. জিয়াউল করিম ও বিচারপতি কে এম ইমরুল কায়েশের...

গাইবান্ধায় স্কুল কমিটি নিয়ে বিরোধে ছাত্রশিবির নেতা খুন; প্রতিপক্ষের বাড়িতে আগুন, জেলা শহরে বিক্ষোভ

গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটি (SMC) গঠন নিয়ে সৃষ্ট বিরোধের জেরে ইসলামী ছাত্রশিবিরের এক ইউনিয়ন নেতাকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। নিহত সাইফুল্লাহ্ বারী (২৪) উপজেলার শিমুলতাইড় গ্রামের হাবিবুর রহমানের ছেলে এবং বোনারপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের বর্তমান সভাপতি ছিলেন। রোববার (২১ জুন) বিকেলে সাঘাটার বাটি গ্রামে স্কুল কমিটির নির্বাচন কেন্দ্রিক আলোচনার একপর্যায়ে প্রতিপক্ষের অতর্কিত হামলায় গুরুতর আহত হন সাইফুল্লাহ্ ও তাঁর সহযোগী সালাউদ্দিন। স্থানীয়রা তাঁদের উদ্ধার করে প্রথমে সাঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে অবস্থার অবনতি হলে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সাইফুল্লাহ্ বারীকে মৃত ঘোষণা করেন।

এই হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে রোববার রাতেই সাঘাটার বোনারপাড়া ইউনিয়নের বাটি গ্রামে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং একদল বিক্ষুব্ধ লোক প্রতিপক্ষের বাড়িঘরে ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। খবর পেয়ে সাঘাটা উপজেলা ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় আড়াই ঘণ্টার নিরলস চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। সাঘাটা উপজেলা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার তোফাজ্জল হোসেন জানান, সময়মতো আগুন নিয়ন্ত্রণে না আনলে তা আশপাশের অন্যান্য বসতবাড়িতে ছড়িয়ে পড়ার তীব্র ঝুঁকি ছিল। এই সহিংস ঘটনায় পুরো এলাকায় বর্তমানে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

হত্যাকাণ্ডের তাৎক্ষণিক প্রতিবাদে রোববার সন্ধ্যায় বোনারপাড়ায় স্থানীয় জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীরা একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের করেন, যেখানে নিহতের স্বজনসহ কয়েক শ’ বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী অংশ নেন। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার (২২ জুন) সকালে গাইবান্ধা জেলা শহরেও ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে আরেকটি বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। সমাবেশে ছাত্রশিবিরের জেলা নেতৃবৃন্দ সাইফুল্লাহ্ বারী হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মূল পরিকল্পনাকারী ও হামলাকারীদের গ্রেপ্তারপূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান; অন্যথায় আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন।

সাঘাটা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহবুবুর রহমান গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাটি পুলিশ খতিয়ে দেখছে, তবে এ বিষয়ে এখনো ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। কারা এই অগ্নিসংযোগের সাথে জড়িত তা সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করতে পুলিশ ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে। ওসির তথ্যমতে, নিহত শিবির নেতা সাইফুল্লাহ্ বারীর পরিবারের পক্ষ থেকে একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়েছে। অপরাধীদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক বিশেষ টিম মাঠে কাজ করছে।