― Advertisement ―

ভারতের সঙ্গে চুক্তির প্রতিবাদে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনে ছাত্র জোটের বিক্ষোভ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে রেল কানেকটিভিটি বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা চুক্তির প্রতিবাদে পুলিশের বাধা অতিক্রম করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে...

গণঅভ্যুত্থানের ৩৬ দিন ও শেখ হাসিনার নির্দেশনা

নিজস্ব প্রতিবেদক:

ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরাসরি নির্দেশে ২০২৪ সালের জুলাইয়ের ছাত্র আন্দোলনে প্রাণঘাতী হামলা চালানো হয়। এতে প্রায় দেড় হাজার নিহত ও আহত হন ২৫ হাজারের বেশি মানুষ। আর আন্দোলন দমাতে সরকার দলীয় নিরাপত্তা বাহিনী ৩০ লাখেরও বেশি রাউন্ড গুলি ছোড়ে। শুধু তাই নয়, ইন্টারনেট বন্ধ এবং ৫ বার বদলানো হয় শহীদ আবু সাঈদের পোস্টমর্টেম রিপোর্ট।

এমন সব চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল জাজিরার ইনভেস্টিগেটিভ ইউনিট ‘হাসিনা-জুলাইয়ের ৩৬ দিন’ শীর্ষক একটি অনুসন্ধানী প্রামাণ্যচিত্রে।

গণমাধ্যমটি দাবী: তাদের হাতে এসেছে গোপনে রেকর্ড করা একাধিক ফোনালাপ, যেখানে শেখ হাসিনা নিজেই ছাত্রদের উপর গুলি চালানোর ‘ওপেন অর্ডার’ দেয়ার কথা বলেছেন। শুধু তাই নয়, হেলিকপ্টার থেকে গুলি চালানোর ঘটনাও উঠে এসেছে রেকর্ডিংয়ে।

আন্দোলনে নিহত, আহত ও গুলি ছোড়ার সংখ্যা:

২১ দিনের বেশি চলা আন্দোলনে ১৫০০ জন নিহত এবং ২৫ হাজারের বেশি আহত হয়েছেন। আন্দোলন দমাতে ৩০ লাখেরও বেশি রাউন্ড গুলি ছোড়ে সরকার দলীয় নিরাপত্তা বাহিনী।

আন্দোলনে গুলি করে হত্যার নির্দেশ:

১৮ জুলাই ২০২৪ তারিখে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপশকে ফোনকলে শেখ হাসিনা বলেন- ‘আমার নির্দেশ তো আগেই দেয়া হয়ে গেছে। আমি তো পুরোপুরি ওপেন অর্ডার দিয়ে দিয়েছি। এখন ওরা মারবে, যেখানে পাবে সেখানে গুলি করবে… আমি তো এতদিন থামিয়ে রেখেছিলাম। আমি ছাত্রদের নিরাপত্তা নিয়ে ভাবছিলাম।’

অন্য এক রেকর্ডিংয়ে শেখ হাসিনা বলেন, যেখানে তারা কোনো জটলা দেখছে, এখন তো উপর থেকেই হচ্ছে, এরই মধ্যে কয়েক জায়গায় শুরু হয়ে গেছে। কিছু সরেছে।

প্রামাণ্যচিত্রে একজন চিকিৎসক নিশ্চিত করেন, বহু আন্দোলনকারী হেলিকপ্টার থেকে চালানো গুলিতে নিহত ও আহত হয়েছেন।

আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ড:

শেখ হাসিনা সরকার হুমকি ও ঘুষের মাধ্যমে আবু সাঈদের মৃত্যুর ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে চেয়েছিল। শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান ফোনে আবু সাঈদের ময়নাতদন্ত রিপোর্টটি পাঁচবার পরিবর্তন করেছেন । যেখানে গুলির কোনো উল্লেখ নেই। তা মুছে ফেলা হয়।

পরে আতঙ্কে থাকা আবু সাঈদের পরিবারকে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করানো হয়।

কেন ইন্টারনেট বন্ধে কৌশল?

বিশ্ববাসী যাতে আন্দোলনের সহিংসতার ছবি, ভিডিও না দেখতে পারে তার জন্য ইন্টারনেট বন্ধের কৌশল করে। এমনকি ইন্টারনেটের সার্ভার ডাউন করে রাখে শেখ হাসিনা সরকার।

আওয়ামী লীগের দাবী ও রেকর্ডিং অস্বীকার:

আল জাজিরাকে পাঠানো বিবৃতিতে আওয়ামী লীগ বলেছে, শেখ হাসিনা কখনও ‘প্রাণঘাতী অস্ত্র’ ব্যবহারের নির্দেশ দেননি এবং ১৮ জুলাইয়ের রেকর্ডিংকে ভুয়া বলেছে তারা।

একইসঙ্গে, আবু সাঈদের পরিবারের আতঙ্ক নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করলেও, সরকার বাহিনীর অসদাচরণ তদন্তে শেখ হাসিনার আগ্রহ ছিল বলেও দাবি করেছে আওয়ামী লীগ।

ইন্টারনেট বন্ধ প্রসঙ্গে দলটির দাবী, আন্দোলনকারীদের ‘ভাঙচুরে’ ইন্টারনেট অবকাঠামোর ক্ষতির কারণে ইন্টারনেট বন্ধ ছিলো।

টিবিএম/জ/রা