― Advertisement ―

পারভীন হত্যা: খুনি রসু খাঁর মৃত্যুদণ্ড বহাল হাই কোর্টে

চাঁদপুরের পারভীন হত্যা মামলায় আলোচিত খুনি রসু খাঁর মৃতুদণ্ড বহাল রেখেছে হাই কোর্ট।মঙ্গলবার বিচারপতি সৈয়দ মো. জিয়াউল করিম ও বিচারপতি কে এম ইমরুল কায়েশের...

কোথায় হারিয়ে গেল মনপুরার মায়া হরিণ?

আবদুল্লাহ জুয়েল, মনপুরা (ভোলা) প্রতিনিধি : হরিণের রাজ্য হিসাবে পরিচিত ভোলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা মনপুরা। সাগর-নদীর বিস্তির্ণ জলরাশি আর সবুজ বনের নিস্তব্ধতার মাঝে মায়া হরিণ এখানের প্রকৃতিকে দিয়েছে এক নয়নাভিরাম সৌন্দর্য। যা দেখতে প্রতিবছর দেশ-বিদেশ থেকে অসংখ্য পর্যটক ছুটে আসতেন এখানে। এই দ্বীপের শুধু বনে নয়, রাস্তা-ঘাট ও স্থানীয় বাসিন্দাদের বাড়ির উঠানেও অবাধে বিচরন করতো মায়াবী হরিণ। তবে সেই দৃশ্য এখন আর চোখে পড়েনা।

স্থানীয়রা বলছেন, সংঘবদ্ধ শিকারী চক্রের দৌরাত্ম্য, বন কর্তাদের সাথে শিকারীদের সখ্যতা, প্রভাবশালীদের বন কেটে উজাড় করা ও সর্বোপরি বনবিভাগের উদাসীনতায় বিলুপ্তির পথে মায়াবি হরিণ। এখন আর আগের মতো পথে-ঘাটে বা বাড়ির উঠানে চোখে পড়ে না হরিণ। তাই হরিণের দেশ খ্যাত এই দ্বীপে পর্যটকদের ভ্রমণ অনেকাংশেই কমে গেছে।


বনবিভাগের তথ্য মতে, গত ২০ বছর আগে হাজিরহাট ইউনিয়নের জংলারখাল, বদনারচর, চরশামসুদ্দিন, বইশার চর, উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের আলম বাজার সংলগ্ন সংরক্ষিত বনাঞ্চল, লতাখালী সংরক্ষিত বনাঞ্চল, দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের চরপিয়াল, রহমানপুর, কোড়ালিয়া সংরক্ষিত বনাঞ্চল ও চরকলাতলী, ঢালচরে সংরক্ষিত বনাঞ্চলে হরিণ অবমুক্ত করে স্থানীয় বনবিভাগ। তারপর থেকে পর্যায়ক্রমে এই দ্বীপের প্রত্যেকটি বনাঞ্চলে মায়াবি হরিণের অবাধ বিচরণ বাড়তে থাকে। এই সব বনে ২০ হাজারের বেশি মায়াবি হরিণ ছিল বলে জানায় বনবিভাগের কর্মকর্তারা।


উপজেলার উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের আলম বাজার সংলগ্ন সংরক্ষিত বনাঞ্চলের পাশের বাসিন্দা রুবেল, কামালসহ একাধিক ব্যক্তিরা জানান, ৪-৫ বছর আগেও বাজারের সামনের বনে অনেক হরিণ ছিল। প্রায় সময়ই খাবারের খোঁজে হরিণ দলবেঁধে রাস্তায় চলে আসতো। এছাড়াও হরিণ বাচ্চাসহ রাস্তার এপাশ থেকে ওপাশে দৌড়াদৌড়ি করতো। হরিণের সেই অবাধ বিচরণ দেখতে বহু পর্যটককে এখানে বসে অপেক্ষা করতে দেখা যেত। তবে এখন হরিণের দেখা মেলে না। তাই পর্যটকও আর আসে না এই দ্বীপে।


ঢাকার ধানমন্ডী থেকে নাহিদ, সাফায়াত ও সাভার থেকে ইসমাইল ও রাসেদ মনপুরায় ঘুরতে আসা পর্যটক জানান, মনপুরায় হরিণের অনেক গল্প শুনে তারা নিজ চোখে দেখতে মনপুরায় এসেছেন। গত দুইদিন অতিবাহিত হলেও এখানো হরিণের দেখতে পারেননি। হরিণ দেখার অতৃপ্ত বাসনা নিয়ে ফিরে যাবেন বলে জানান তারা।
উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের জসিম, শাহাবুদ্দিন ও দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা রাকিব ও জামাল জানান, গত আওয়ামীলীগ আমলে হরিণ শিকারীদের দৌরাত্য কারণে বনের হরিণ বিলুপ্তির পথে।

এছাড়াও ওই সময়ে মিঠা পানির খোঁজে বনের হরিণ লোকালয়ে আসলে তা স্থানীয় নেতারা ধরে জবাই করে মাংস ভাগ করে নিতেন। এছাড়াও নদী ভাঙ্গন ও বন উজারের কারনে হরিণের আবাসস্থল কমে যাচ্ছে। তাই এই দ্বীপে হরিণ বিলুপ্তির পথে।


এই ব্যাপারে বনবিভাগের মনপুরা রেঞ্জ কর্মকর্তা রাশেদুল হাসান অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, সংরক্ষিত বনাঞ্চলে প্রহরীরা সর্তক রয়েছে। হরিণ শিকারীদের বিরুদ্ধে তারা কঠোর অবস্থানে রয়েছে। তবে তিনি হরিণের সংখ্যা কমে যাচ্ছে কেন এমন প্রশ্নে তিনি কোন উত্তর দেননি।


মনপুরা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আহসান কবির জানান, শুনেছি এখানকার বনে এক সময় প্রচুর হরিণের বিচরণ ছিল। তা দেখতে পর্যটক আসতো। এখন হরিণের সংখ্যা কমে যাওয়ায় পর্যটক আসছে না। বনে হরিণের সংখ্যা কিভাবে বাড়ানো যায় তা নিয়ে বনবিভাগের সাথে আলাপ করে ব্যবস্থা গ্রহন করা হচ্ছে। এছাড়াও সংরক্ষিত বনাঞ্চলে হরিণ শিকারীদের ধরতে বনবিভাগের পাশাপাশি পুলিশি টহল বৃদ্ধি করা হয়েছে।

বিএম/জ/রা