― Advertisement ―

কুয়েতে বিদেশি নাগরিকসহ ৫ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর

কুয়েতে পরিকল্পিত হত্যা, সশস্ত্র অপহরণ ও ধর্ষণের মতো সুনির্দিষ্ট জঘন্য অপরাধে দোষী সাব্যস্ত পাঁচ ব্যক্তির ক্যাপিটাল পানিশমেন্ট বা মৃত্যুদণ্ড ফাঁসির মাধ্যমে কার্যকর করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৩ জুন, ২০২৬) দেশটির সর্বোচ্চ বিচারিক স্তর কোর্ট অব ক্যাসেশন (Court of Cassation) কর্তৃক প্রদত্ত সাজার রায় বহাল রাখার পর কুয়েতের আমির শেখ মিশাল আল-আহমদ আল-জাবের আল-সাবাহর (Sheikh Meshal) চূড়ান্ত অনুমোদন সাপেক্ষে কুয়েত সিটি সেন্ট্রাল প্রিজনে (Kuwait Central Prison) এই দণ্ড কার্যকর করা হয়। দেশটির পাবলিক প্রসিকিউশনের (Public Prosecution) সদর দফতর থেকে জারি করা এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, সমস্ত আইনি ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অক্ষরে অক্ষরে সম্পন্ন করার পরেই এই ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে।

পাবলিক প্রসিকিউশন তাদের বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করেছে, দীর্ঘ তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ার পুরো সময়জুড়ে দণ্ডপ্রাপ্তদের প্রতিটি সাংবিধানিক অধিকার ও ইন্টারন্যাশনাল হিউম্যান রাইটস প্রটোকল কঠোরভাবে নিশ্চিত করা হয়েছিল। এর মধ্যে পর্যাপ্ত আত্মপক্ষ সমর্থন, আইনি রিট এবং ধারাবাহিক উচ্চতর আপিলের সুযোগও অন্তর্ভুক্ত ছিল। মামলাগুলো প্রাথমিক আদালত, আপিল আদালত এবং জুডিশিয়াল রিভিউয়ের সর্বোচ্চ স্তর কোর্ট অব ক্যাসেশনের চুলচেরা আইনি পর্যালোচনাসহ সবকটি প্রাতিষ্ঠানিক ধাপ সফলভাবে অতিক্রম করে। ফাঁসিপ্রাপ্তদের সর্বশেষ আইনি ডেটা বিশ্লেষণ করে জানা গেছে, দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে তিনজন কুয়েতি নাগরিক, একজন মিসরীয় নাগরিক এবং অপরজন কুয়েতের অভ্যন্তরীণ আইনি কাঠামোর অধীনস্থ একজন রাষ্ট্রহীন বাসিন্দা বা ‘বেদুন’ (Bidoon)।

দণ্ডপ্রাপ্তদের অপরাধের বিবরণ দিয়ে কুয়েতি প্রসিকিউটর অফিস জানায়, প্রথম কুয়েতি নাগরিকটি ২০২১ সালে এক অন-ডিউটি পুলিশ কর্মকর্তাকে অত্যন্ত পরিকল্পিত ও নৃশংসভাবে হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হন। দ্বিতীয় কুয়েতি নাগরিককে ২০২৩ সালের একটি চাঞ্চল্যকর ডাবল মার্ডার ও গ্যাংস্ট্রিজম মামলায় অপহরণ, পরিকল্পিত খুন, অবৈধভাবে নাগরিক আটকে রাখা, বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে নিষিদ্ধ মাদকদ্রব্য এবং লাইসেন্সবিহীন আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ রাখার অপরাধে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। তৃতীয় কুয়েতি নাগরিকটি ২০১৭ সালে সংঘটিত একটি পারিবারিক হত্যাকাণ্ডের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হন। এছাড়া অপরাধীদের মধ্যে থাকা মিসরীয় নাগরিককে ২০২৪ সালের একটি স্পর্শকাতর মামলায় এক নারীকে পথ থেকে অপহরণ, জোরপূর্বক ধর্ষণ ও অবৈধভাবে আটকে রাখার মধ্য দিয়ে চরম মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায়ে সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশে ফাঁসি দেওয়া হয়।

পঞ্চম ব্যক্তিটি ছিলেন একজন রাষ্ট্রহীন বাসিন্দা (বেদুন), যিনি ২০২১ সালের একটি পরিকল্পিত ও সশস্ত্র ডাকাতিজনিত হত্যা মামলায় চূড়ান্তভাবে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ছিলেন। পাবলিক প্রসিকিউশন আরও স্পষ্ট করেছে, দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে একজন আসামি চূড়ান্ত সাজা কার্যকরের ঠিক আগমুহূর্তে আইনি মারপ্যাঁচে মামলার পুনর্বিবেচনার (Judicial Review) জন্য সুপ্রিম কোর্টে একটি বিশেষ আবেদন করেছিলেন। তবে দেশের সর্বোচ্চ আদালত সমস্ত নথি পর্যালোচনা শেষে সেই শেষ আবেদনটিও খারিজ করে দিলে কুয়েতের দণ্ডবিধির বিধান অনুযায়ী সব ধরনের আইনি প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে সমাপ্ত ঘোষণা করে আজ ফাঁসি কার্যকর করা হয় বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ‘গাল্ফ নিউজ’ (Gulf News) ও কুয়েত নিউজ এজেন্সির (KUNA) বিশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।