জলবায়ু পরিবর্তনের মারাত্মক প্রভাবে উত্তর আমেরিকার বিস্তীর্ণ অঞ্চলজুড়ে আবারও আছড়ে পড়েছে রেকর্ডভাঙা তীব্র তাপপ্রবাহ। কানাডার একাধিক প্রদেশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার নজিরবিহীন বৃদ্ধিতে কোটি কোটি মানুষের জীবনযাত্রা চরমভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনা করে উভয় দেশের আবহাওয়া দপ্তর থেকে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বিবিসি ও পরিবেশ বিজ্ঞানীদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, একটি শক্তিশালী বায়ুমণ্ডলীয় উচ্চচাপ বলয়ের কারণে সৃষ্ট এই চরম দাবদাহ ক্রমান্বয়ে পূর্ব দিকে অগ্রসর হচ্ছে, যার ফলে বুধবার পর্যন্ত কানাডার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের মিডওয়েস্ট ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে তীব্র গরম অব্যাহত থাকবে।
কানাডার বৃহত্তম শহর টরন্টোতে তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস স্পর্শ করার পর রেললাইন অতিরিক্ত উত্তপ্ত হয়ে বেঁকে যাওয়ায় ট্রেন চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। একই সাথে এনভায়রনমেন্ট কানাডা সতর্ক করেছে যে, চরম গরমের সাথে উচ্চ আর্দ্রতা যুক্ত হওয়ায় ওই অঞ্চলের বায়ুর মান বিপজ্জনক স্তরে নেমে এসেছে। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, মধ্য ও পূর্ব কানাডায় একটি শীতল বায়ুপ্রবাহ প্রবেশের সম্ভাবনা থাকলেও, তা তাপমাত্রা সাময়িক কমানোর পাশাপাশি আকস্মিক ও শক্তিশালী বজ্রঝড়ের নতুন ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক, বোস্টন ও ফিলাডেলফিয়ার মতো প্রধান মেগাসিটিগুলোতে বুধবার পর্যন্ত রেড অ্যালার্ট জারি রয়েছে। চলতি সপ্তাহের শুরুতে মন্টানার বিলিংস শহরে তাপমাত্রা রেকর্ড ১১১ ডিগ্রি ফারেনহাইট এবং ইউটাহর সল্ট লেক সিটিতে ১০৯ ডিগ্রি ফারেনহাইটে পৌঁছায়, যা এই শহর দুটির পূর্ববর্তী সমস্ত ঐতিহাসিক রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। ওয়াশিংটন ডিসিতে তাপমাত্রা ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস অতিক্রম করায় এবং চরম আর্দ্রতার কারণে অনুভূত তাপমাত্রা আরও অনেক বেশি হওয়ায় নাগরিকদের ঘরের বাইরে বের না হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
পরিবেশ বিজ্ঞানীদের মতে, শিল্পবিপ্লবের পর থেকে বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা ইতোমধ্যে ১.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে এই ধরনের চরম আবহাওয়া এখন আরও ঘন ঘন ও দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে। গ্রিনহাউস গ্যাসের নির্গমন অবিলম্বে নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে ভবিষ্যতে উত্তর গোলার্ধের জনপদগুলো আরও বড় ধরনের বাস্তুসংস্থানিক ও অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মুখোমুখি হবে। চলতি মাসের শুরুতে একই ধরনের দাবদাহে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অন্তত ৪৪ জনের মৃত্যু এবং ১৬ কোটিরও বেশি মানুষের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনা এই জলবায়ু সংকটের তীব্রতাকেই প্রমাণ করে।



