― Advertisement ―

ইরান সংঘাতের ধাক্কা ইন্দো-প্যাসিফিকে: তাইওয়ানের মেগা প্রতিরক্ষা প্যাকেজ কি আটকে দিচ্ছে ওয়াশিংটন?

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সাথে চলমান তীব্র সামরিক সংঘাতের অজুহাতে তাইওয়ানের কাছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বনির্ধারিত বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রি সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে বলে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস হয়েছে। মার্কিন নৌবাহিনীর একজন অতি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার এমন বিস্ফোরক মন্তব্যের পর আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা অঙ্গন ও ওয়াশিংটন-তাইপে কূটনৈতিক মহলে তীব্র তোলপাড় শুরু হয়েছে। তবে এই গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ার পরপরই তা সামাল দিতে মাঠে নেমেছে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট কার্যালয়। এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে তাইপে স্পষ্ট জানিয়েছে, আমেরিকার পক্ষ থেকে তাদের সামরিক সহযোগিতা বা অস্ত্র সরবরাহ প্যাকেজ পুনর্নির্ধারণ, সমন্বয় কিংবা স্থগিতকরণের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক বা দাপ্তরিক বার্তা তারা পায়নি।

ঐতিহাসিক ও আইনি কাঠামোর দিকে তাকালে দেখা যায়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব অভ্যন্তরীণ আইন ‘তাইওয়ান রিলেশনস অ্যাক্ট’ (Taiwan Relations Act) অনুযায়ী স্বশাসিত এই দ্বীপরাষ্ট্রটিকে নিজেদের আত্মরক্ষার সক্ষমতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সর্বাধুনিক সামরিক প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষামূলক অস্ত্র সহায়তা দিতে ওয়াশিংটন সম্পূর্ণ বাধ্য। অন্যদিকে, এই আইনি বাধ্যবাধকতাকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন আখ্যা দিয়ে তীব্র বিরোধিতা করে আসছে এশিয়ার পরাশক্তি চীন। বেইজিং দীর্ঘদিন ধরেই অত্যন্ত জোরালো ভাষায় ওয়াশিংটনকে তাইপের কাছে সমস্ত ধরনের অন্যায্য ও উসকানিমূলক অস্ত্র বিক্রি অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে আসছে, যা দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি বড় দেওয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ভৌগোলিক ও রাজনৈতিকভাবে চীন তাইওয়ানকে নিজেদের অবিচ্ছেদ্য ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে দাবি করে এবং প্রয়োজনে সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে একে মূল ভূখণ্ডের সাথে যুক্ত করার হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছে। এই চরম সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তাইপে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে একটি যুগান্তকারী ও মেগা ফাইটার উইপনস প্যাকেজ অনুমোদনের জন্য সাগ্রহে অপেক্ষা করছে। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের (Reuters) একটি বিশেষ অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হয়েছে যে, মার্কিন কংগ্রেসে অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকা সম্ভাব্য এই বিশালাকার সামরিক প্রতিরক্ষা প্যাকেজের মোট আর্থিক মূল্য প্রায় ১৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা তাইওয়ানের আকাশ ও নৌ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আমূল বদলে দিতে পারে।

তবে এই সামরিক চুক্তির ভবিষ্যৎ এখন এক গভীর অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। গত সপ্তাহে বেইজিংয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সাথে এক রুদ্ধদ্বার ও উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গণমাধ্যমকে বলেন, তিনি তাইওয়ানের এই নতুন অস্ত্র বিক্রির নথিতে চূড়ান্ত অনুমোদন দেবেন কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো শেষ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেননি। আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক ও সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সম্পদ ও জনবল শুষে নেওয়া ইরান যুদ্ধ, আর অন্যদিকে চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের এই জটিল টানাপোড়েনের মাঝে তাইওয়ানের এই ট্রিলিয়ন টাকার অস্ত্র চুক্তি ঝুলে যাওয়া সামগ্রিক ইন্দো-প্যাসিফিক (Indo-Pacific) অঞ্চলের নিরাপত্তা ও শক্তির ভারসাম্যে অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী ও মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে।