― Advertisement ―

ভারতের সঙ্গে চুক্তির প্রতিবাদে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনে ছাত্র জোটের বিক্ষোভ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে রেল কানেকটিভিটি বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা চুক্তির প্রতিবাদে পুলিশের বাধা অতিক্রম করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে...

আওয়ামী লীগের ‘ভোট ব্যাংকে’ বিএনপি-জামায়াতের নজর

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি দেশের বিভিন্ন সংসদীয় আসনে দলীয় প্রার্থী বাছাই, তৃণমূলে সভা-সমাবেশ এবং ধানের শীষের পক্ষে গণসংযোগ শুরু করেছে আগেই। তবে এবার বিএনপি এমন এক সময়ে নির্বাচনি প্রস্তুতি ও প্রচার-প্রচারণা শুরু করেছে যখন মাঠে প্রকাশ্যে নেই আওয়ামী লীগ।

এমতাবস্থায় ভোটের মাঠে বিএনপির প্রধান প্রতিপক্ষ হয়ে উঠেছে বিএনপিরই একসময়ের মিত্র জামায়াতে ইসলামী। আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় নির্বাচনে অংশ নেওয়াও তাদের অনিশ্চিত। ফলে আওয়ামী লীগের যে বড় ভোট ব্যাংক রয়েছে, নির্বাচনের মাঠে তা কাজে লাগাতে বিএনপি-জামায়াত দুদলই তাতে নজর দিয়েছে।

জামায়াতে ইসলামী নির্বাচনের প্রার্থী নির্দিষ্ট করে প্রস্তুতি শুরু করেছে আরও প্রায় বছরখানেক আগে। যদিও অতীতে নির্বাচনে দলটির যে ভোট তাতে করে জামায়াত বিএনপিকে আদৌ কোনো চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিতে পারবে কি-না, সে প্রশ্ন তুলছেন অনেকেই।

বাংলাদেশে গণভোট, জুলাই সনদ বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতবিরোধের মধ্যেই সারাদেশে নির্বাচনী প্রস্তুতি এগিয়ে চলছে।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান গণমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে জানিয়েছেন, নির্বাচনের আগেই তিনি দেশে ফিরছেন এবং নির্বাচনেও অংশ নেবেন।

এদিকে মাঠপর্যায়ে জামায়াতকে বেশ আত্মবিশ্বাসী মনে হচ্ছে। সাম্প্রতিক বিভিন্ন জরিপে জামায়াতের সমর্থন বিএনপির কাছাকাছি উঠে আসায় জামায়াতের নেতারাও বিভিন্ন সময় আগামী নির্বাচনে জয়ের আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। জামায়াত বিভিন্ন রাজনৈতিক দলকে সাথে নিয়ে বিএনপি বিরোধী আলাদা একটি জোট তৈরির প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।

এখন বিএনপি-জামায়াত দুদলেরই চিন্তা, আওয়ামী লীগের সাধারণ সমর্থকরা ভোট দিতে যাবেন কি-না কিংবা গেলে কোন দলকে ভোট দেবেন, সেটাই নির্বাচনে বড় প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন দুদলের নেতারা।

অন্যদিকে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় অপ্রতিদ্বন্দ্বী দল হিসেবে পরিচিত বিএনপি দলীয় সংঘাত মেটাতেই হিমশিম খাচ্ছে। দলটির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব বলছে, এ পর্যন্ত সাত হাজার নেতা–কর্মীর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কতটি সংঘাতের ঘটনায় কতজনের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সেই হিসাব দিয়ে বিএনপি নেতৃত্ব আত্মতৃপ্তি পেতে পারেন; কিন্তু মানুষ দেখতে চায় দলের নেতা–কর্মীদের সংঘাত বন্ধ হচ্ছে কি না। শৃঙ্খলা আনা যাচ্ছে কি না।

আগামী জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে নারী ভোটারদের লক্ষ্য করে জামায়াত সারা দেশে নিজেদের মহিলা বিভাগের কর্মীদের মাঠে নামিয়েছে। ঘরে ঘরে জামায়াতের নারী কর্মীরা প্রচারে নেমেছেন। তাঁরা প্রতিটি বাড়িতে যাচ্ছেন, তাঁদের সমস্যার কথা জানতে চাইছেন। আর পুরুষ কর্মীরা হাটবাজারে সমাবেশ করছেন, মসজিদে মুসল্লিদের সঙ্গে মতবিনিময় করছেন।

সবমিলিয়ে বিএনপি মনে করে জামায়াত তাদের জন্য বড় কোনো চ্যালেঞ্জ নয়। অন্যদিকে জামায়াত মনে করছে, তারা জেতার মতো অবস্থায় আছে। কিন্তু সাধারণ ভোটাররা কী মনে করছেন? সেটাই এখন দেখার বিষয়।