― Advertisement ―

ভারতের সঙ্গে চুক্তির প্রতিবাদে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনে ছাত্র জোটের বিক্ষোভ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে রেল কানেকটিভিটি বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা চুক্তির প্রতিবাদে পুলিশের বাধা অতিক্রম করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে...

দ্রুত অভিযান বাহিনীটি (র‍্যাব) এখন নিষ্ক্রিয়

নিজস্ব প্রতিবেদক

র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন সংক্ষেপে (র‍্যাব) এর বাংলা অর্থ হলো দ্রুত আভিযান বাহিনী। অর্থাৎ দেশের কোথাও কোন অপরাধের ঘটনা ঘটলে খুব দ্রুত ব্যবস্থা নেবে বা অভিযানে যাবে এই বাহিনীটি।

অথচ চব্বিশে গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে ১২ হাজার সদস্য নিয়ে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) কার্যক্রমে কার্যত নিষ্ক্রিয় ভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এমন পরিস্থিতিতে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় র‍্যাবকে কীভাবে কাজে লাগানো হবে সে বিষয়েও প্রশ্ন উঠছে বিভিন্ন মহলে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী সরকারের শেষ কয়েক বছরে শীর্ষ সন্ত্রাসী দমন, অবৈধ অস্ত্র-মাদক উদ্ধারে তাদের ভূমিকা যথেষ্ট দৃশ্যমান হয়নি। এরপর গত বছরের পাঁচ অগাস্টের পর দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হলে তা নিয়ন্ত্রণে র‍্যাবের নিষ্ক্রিয়তা দৃশ্যমান হয়ে ওঠে।

ঢাকাসহ সারাদেশে একের পর এক মব, হত্যা, চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটলেও তা দমনে মাঠে র‍্যাবকে কার্যকর ভূমিকায় দেখা যায়নি বলেই মনে করছেন অনেকে।

২০০৪ সালে পুলিশের একটি বিশেষায়িত ইউনিট গঠন করার প্রক্রিয়া শুরু করে তৎকালীন বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট সরকার। ওই বছরের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসের প্যারেডে কুচকাওয়াজে অংশগ্রহণের মাধ্যমে এলিট ফোর্স র‍্যাবের আত্মপ্রকাশ ঘটে।

সম্প্রতি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে গুমের একটি মামলায় ১৭ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল হয়েছে। এ আসামিদের অনেকেই একসময় র‍্যাবে কর্মরত ছিলেন।

এদিকে, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগের শাসনামলে র‍্যাবের বিরুদ্ধে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুমের মতো ঘটনার অভিযোগ আনে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন।

মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায়ে র‍্যাব এবং এর সাত কর্মকর্তার ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কয়েক বছরের মাথায় জুলাই আন্দোলনে ছাত্র-জনতার ওপর গুলি চালানোর অভিযোগ ওঠে তাদের বিরুদ্ধে।

র‍্যাবকে শুধু পুলিশের বিশেষ ইউনিট হিসেবেই কার্যকর রাখা উচিত বলে মনে করেন গুমসংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের সদস্য ও মানবাধিকার কর্মী নূর খান লিটন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং সমাজ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক বলেন, র‍্যাবকে পেশাদার একটি বাহিনী হিসেবে সংস্কার করে দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কাজে লাগানোর বড় সুযোগ রয়েছে।