ওসমান হাদিকে গুলি করে শুটাররা নিরাপদে ভারতে গিয়ে সেলফি তুলছে। এটাকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার চরম ব্যর্থতা হিসেবে দেখছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও দেশের সাধারণ মানুষ।
সন্ত্রাসীরা কীভাবে, কোন পথে, কাদের সহায়তায় দেশত্যাগ করেছে-এর সব তথ্যই এখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে রয়েছে।
জানা যায়, ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটের ভুটিয়াপাড়া সীমান্ত দিয়ে তারা দেশ ছেড়েছে। সেখানে যে দুইজন পাচারকারী তাদের সাহায্য করেছে তাদেরকেও আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
এমনকি শুটার ফয়সালের স্ত্রী, শ্যালক ও তার প্রেমিকাকেও গ্রেফতার করে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে কিন্তু আসল টার্গেট হাতছাড়া হয়ে গেছে। ঠিক যেন চোর পালালে বুদ্ধি বাড়ে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক এবং সমাজ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ডা. তৌহিদুল হক বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমরা দেখেছি হাদিকে রাজধানী হত্যার চেষ্টা করা হয়।
তিনি বলেন , ‘আমরা জানি আমাদের বর্ডার সুরক্ষিত। সীমান্তে নিরাপত্তার জন্য বিজিবিও আছে। এর বাইরেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী থাকা সত্ত্বেও তারা কিভাবে পালিয়ে যায়?
তিনি আরো বলেন, ‘এ ধরনের অপরাধ করে তারা কিভাবে ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়। এটি আমাদের হতাশ করেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশের কয়েকজন সিনিয়র কর্মকর্তা জানান, পুলিশ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হাই কমেন্ট থেকে নির্দেশনা দেওয়াসহ অ্যাকশন প্ল্যান নেওয়া দরকার ছিল, কিন্তু সেটা হয়নি।
ফলে যা হওয়ার তাই হয়েছে। আমরা শুধু অফিশিয়াল ভাষায় কথা বলে গেছি। আর হাদির ওপর হামলাকারীরা তাদের পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী নির্বিঘ্নে সীমান্ত পার হয়ে ভারতে চলে যেতে পেরেছে।
রাজধানীতে এ ধরনের চাঞ্চল্যকর অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পর দুর্বৃত্তদের ধরতে সবচেয়ে বেশি তৎপর থাকার কথা ছিল ডিএমপির। অথচ ১২ ডিসেম্বর ওসমান হাদির ওপর হামলার ঘটনার পর তাৎক্ষণিকভাবে রাজধানীতে অতিরিক্ত চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি করার কোনো দৃশ্য দেখা যায়নি।
চরম এই ব্যর্থতার দায় ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অপরাধ বিভাগ ও গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) এবং ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি এড়াতে পারেন না। তাদের চরম ব্যর্থতার কারণে হাদির ওপর হামলাকারীরা ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকা পার হয়ে দেশত্যাগ করেছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যর্থতার বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশের অতিরিক্ত আইজি (অপরাধ ও অপস) খোন্দকার রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের উচিত ছিল যেভাবে হোক আসামিদের কবজায় আনা। তবে শেষ পর্যন্ত আমরা তাদের ধরতে পারিনি, এটাই বাস্তবতা।’
নাম প্রকাশ না করে তদন্তসংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, ঘটনার আগের রাতে ফয়সাল তার বান্ধবীকে নিয়ে সাভারের মধুমতি টাউনের একটি কটেজে ছিলেন। ঘটনার দিন শুক্রবার ভোরে কটেজ থেকে বেরিয়ে ঢাকায় এসে দুপুরে হাদিকে গুলি করার পর মিরপুর থেকে ভাড়া করা প্রাইভেটকারে ফয়সাল ও আলমগীর গাজীপুরে পৌঁছায়।
এ সময় বিকাশের মাধ্যমে ফয়সাল তার স্ত্রী সামিয়ার কাছ থেকে ৩০ হাজার নেন। ওই টাকা থেকে বিকাশের মাধ্যমেই প্রাইভেটকারের ভাড়া পরিশোধ করেন। পরে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটের ভুটিয়াপাড়া সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালিয়ে যায়।
এদিকে ওসমান হাদিকে হত্যাচেষ্টা ঘটনার দুইদিন পর মামলা রেকর্ড হয়েছে। মামলায় হাদির ওপর হামলার নেপথ্যে পতিত আওয়ামী লীগের সম্পৃক্ততার বিষয়ে অভিযোগ করা হয়েছে।
ডিএমপির পল্টন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তফা কামাল খান বলেন, সোমবার ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে মামলা করেছেন। মামলায় ফয়সাল করিম মাসুদসহ অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে। মামলাটি ডিবিতে হস্তান্তর করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।



