চলতি ২০২৬ সালের অক্টোবর মাসের মাঝামাঝি সময়ে জাপান সফরে যেতে পারেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। টোকিও এবং ঢাকার কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, এই গুরুত্বপূর্ণ সফরে জ্বালানি সংকট, অবকাঠামোগত প্রকল্পে সহজ শর্তের ঋণ, দক্ষ জনশক্তি রফতানি, মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি এবং রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বিষয়গুলো আলোচনার শীর্ষে থাকবে।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। পরবর্তীতে ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকার গঠনের পর জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে পারস্পরিক সুবিধাজনক সময়ে জাপান সফরের জন্য একটি আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণপত্র পাঠান। বর্তমানে উভয় দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শীর্ষ বৈঠকের তারিখ ও এজেন্ডা চূড়ান্ত করতে জোর কূটনৈতিক আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।

স্বাধীনতার পর থেকেই বাংলাদেশের অন্যতম বিশ্বস্ত উন্নয়ন সহযোগী জাপান। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই সফর দুদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। বিশেষ করে, সাম্প্রতিক মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের কারণে উদ্ভূত বিশ্ব জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশ এখন জিসিসি (জিডিজি) ভুক্ত দেশগুলোর ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প জ্বালানি উৎসের সন্ধানে কাজ করছে। এক্ষেত্রে জাপানের প্রযুক্তিগত ও কূটনৈতিক সহযোগিতা প্রত্যাশা করছে ঢাকা।
অন্যতম প্রধান এজেন্ডা হিসেবে উঠে আসছে শ্রমবাজার ও জনশক্তি খাত। জাপানে জনসংখ্যা হ্রাস ও প্রবীণ জনগোষ্ঠীর আধিক্যের কারণে তীব্র শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশটির জাপানি নাগরিক সংখ্যা ১১ কোটি ৯৭ লাখে নেমে এসেছে। অন্যদিকে, জাপানে অবস্থানরত বাংলাদেশির সংখ্যা বর্তমানে প্রায় ৫৭ হাজার। বিএমইটির কর্মকর্তারা বলছেন, নেপাল ও ভিয়েতনামের মতো দেশগুলো বড় আকারের শ্রমবাজার দখল করলেও বাংলাদেশ থেকে দক্ষ জনশক্তি নিতে জাপানকে বিশেষ অনুরোধ জানানো হবে।
সম্প্রতি ঢাকায় নিযুক্ত জাপানের প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উপদেষ্টা ইউনো ইয়োশিমাসা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সাক্ষাৎ করলে তারেক রহমান স্পষ্ট জানান, আড়াইহাজারে জাপানি অর্থনৈতিক অঞ্চলের মতো জাপান চাইলে নতুন ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক গঠনে সব ধরনের সহায়তা দেবে সরকার। বৈঠকে আগামী ১৬ ডিসেম্বর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের উদ্বোধন এবং চলমান এমআরটি (মেট্রোরেল) প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়েও ইতিবাচক কথা হয়।
এছাড়া কক্সবাজার ও ভাসানচরে অবস্থানরত ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীর পুনর্বাসন এবং মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে কৌশলগত ভূমিকা রাখতে জাপানের প্রতি আহ্বান জানাবে বাংলাদেশ। গত ফেব্রুয়ারি মাসে দুদেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘ইকোনমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট’ (EPA) বা অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি অনুযায়ী জাপানি সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ (FDI) বাড়াতে এই শীর্ষ সফর পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করবে বলে আশা প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্টরা।



