নিজস্ব প্রতিবেদক
দীর্ঘ ৩৫ বছর পর প্রস্তুতি চলছিল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচনের। কিন্তু নানা সংকটে ভোটগ্রহণের পরিবেশ অনুকূলে না থাকায় পূর্বনির্ধারিত তারিখ পরিবর্তন করা হয়েছে।
তাই আগামী ২৫ সেপ্টেম্বরের পরিবর্তে ১৬ অক্টোবর রাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছে রাকসু নির্বাচন কমিশন। গতকাল সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাকসু নির্বাচন কমিশনের জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে:
রাকসু নির্বাচন কমিশন ২০২৫-এর পূর্ণাঙ্গ সভায় আগামী বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিতব্য রাকসু, হল সংসদ ও সিনেটে ছাত্র প্রতিনিধি নির্বাচনপূর্ব উদ্ভূত পরিস্থিতি সার্বিকভাবে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়। এতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে বিরাজমান পরিস্থিতি কোনো অবস্থাতেই রাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠানের অনুকূলে নয়।
যে কারণে পেছালো ভোটের তারিখ:
শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের ভর্তিতে প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধা পোষ্য কোটা ইস্যুতে গত শনিবার বিকেল থেকে উত্তাল ছিলো রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। এক পর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের জুবেরি ভবনে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ধস্তাধস্তি ও উপ-উপাচার্য লাঞ্ছিত হন।
এ ঘটনার প্রতিবাদে রোববার থেকে কর্মবিরতি শুরু করে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ঘোষিত ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি চলমান রয়েছে।
এমতাবস্থায় রাকসু নির্বাচনে দায়িত্ব পালনে প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিক্ষক/কর্মকর্তা/কর্মচারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা যায়নি। এ কারণে রাকসু নির্বাচন উৎসবমুখর, অংশগ্রহণমূলক ও সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করার স্বার্থে ভোটের তারিখ পিছিয়েছে কমিশন।
নির্বাচনের আগ্রহ হারাচ্ছেন প্রার্থীরা:
শিক্ষক ও কর্মকর্তা–কর্মচারীদের কর্মবিরতি চলমান থাকলে রাকসু নির্বাচন হবে কি না এ নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। এতে প্রার্থীরা আগ্রহ হারিয়েছেন নির্বাচন নিয়ে। আবার বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রছাত্রীর সংখ্যাও কমে গেছে।
আবার রোববার সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাস, পরীক্ষা বন্ধ থাকায় আবাসিক হলগুলো ছেড়ে বাড়ি চলে গেছেন অনেক শিক্ষার্থী। এদিকে রাবি ক্যাম্পাসে সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর পরিবেশ ফিরিয়ে এনে পূর্বনির্ধারিত তারিখে নির্বাচন আয়োজনের দাবি তুলেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা।
গতকাল সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন মার্কেট চত্ত্বরে ক্যাম্পাসে চলমান অস্থিতিশীল পরিবেশ নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানান তারা।
ছাত্রদল সমর্থিত “ঐক্যবদ্ধ নতুন প্রজন্ম” প্যানেলের ভিপি প্রার্থী শেখ নুর উদ্দিন আবির বলেছেন, আমাদের জন্য নির্বাচনের তারিখ সমস্যা নয়, তবে শতভাগ ভোটার উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়াটা গুরুত্বপূর্ণ মনে করছি। তাই দরকার হলে দুর্গাপূজার পর নির্বাচন হোক, আমরা সেটাই চাই।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক এফ নজরুল ইসলাম বলেন, ২৫ তারিখেই নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তবে শিক্ষক-কর্মকর্তাদের শাটডাউন কর্মসূচির কারণে কিছুটা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তাই সবদিক বিবেচনা করে রাকসু নির্বাচনের জন্য নতুন তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে।
রাবি’র ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ইফতিখারুল আলম মাসউদ গণমাধ্যমকর্মীদের বলেছেন, শনিবার বিকেলে জুবেরি ভবনে উপ-উপাচার্যকে লাঞ্ছিত করার ঘটনার নিন্দা জানানো হয়েছে সিন্ডিকেট সভায়। প্রথমবর্ষের ভর্তিতে শিক্ষক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের ভর্তির বিষয়ে প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধা (পোষ্য কোটা) আপাতত স্থগিত থাকবে।
তিনি আরো বলেন, সব মিলিয়ে রাকসু নির্বাচনের ভোটগ্রহণের অনূকূল পরিবেশ না থাকায় সবার সম্মতিতে ভোটের নতুন তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে।
টিবিএম /জ/রা



