দায়িত্বে চরম অবহেলা এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অসহযোগিতার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) শারীরিক শিক্ষা দপ্তরের উপ-পরিচালক সেলিনা বেগমকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে প্রশাসন। রোববার (১৭ মে, ২০২৬) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মো. হুমায়ুন কবির স্বাক্ষরিত এক দাপ্তরিক আদেশের মাধ্যমে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানানো হয়। আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ফুটবল টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া খেলোয়াড় ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এই কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত গত ১৩ এপ্রিল, যখন আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ফুটবল প্রতিযোগিতায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) মুখোমুখি হওয়ার কথা ছিল বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের। খেলোয়াড়েরা যথাসময়ে মাঠে উপস্থিত থাকলেও শারীরিক শিক্ষা দপ্তরের এই কর্মকর্তার চরম অদূরদর্শিতা, প্রশাসনিক উদাসীনতা ও অসহযোগিতার কারণে দল শেষ পর্যন্ত মাঠে নামতে পারেনি। ফলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপক্ষে ম্যাচটিতে অংশ না নিয়েই টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যেতে হয় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়কে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত বিদায় ববির ক্রীড়ামোদীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দেয়।
চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত সেই টুর্নামেন্ট শেষ করে ক্যাম্পাসে ফিরে গত ১৪ মে ফুটবল দলের খেলোয়াড় ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা একজোট হয়ে আন্দোলনে নামেন। তাঁরা শারীরিক শিক্ষা দপ্তরের এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রাতিষ্ঠানিক নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ এনে তাঁকে আগামী ছয় ঘণ্টার মধ্যে বরখাস্ত করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে একটি লিখিত আলটিমেটাম দেন। শিক্ষার্থীদের এই যৌক্তিক ও তাৎক্ষণিক দাবির মুখে বিষয়টি আমলে নেয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, যার চূড়ান্ত ফল হিসেবে এই সাময়িক বরখাস্তের আদেশ জারি করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা-২০১৮ এর সংশ্লিষ্ট ধারা এবং বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় আইনের ৪৪(৬) ধারা মোতাবেক সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে সেলিনা বেগমকে এই সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। তদন্ত চলাকালীন সময়ে তিনি বিধি অনুযায়ী কেবল খোরাকি ভাতা বা জীবনধারণের জন্য নির্ধারিত ভাতা পাবেন। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ক্যাম্পাসে প্রশাসনিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বর্তমান উপাচার্য প্রশাসনের সদিচ্ছার প্রতিফলন ঘটেছে বলে মনে করছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।



