বাংলাদেশে সংক্রামক ব্যাধি হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সোমবার সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার (৯ জুন, ২০২৬) সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ের মধ্যে এই তিন শিশুর মৃত্যু হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ হামবিষয়ক বিশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। নতুন করে মারা যাওয়া শিশুদের মধ্যে একজন রাজধানী ঢাকায়, একজন সিলেটে এবং অন্যজন ময়মনসিংহে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। একই সময়ে দেশজুড়ে আরও ১ হাজার ৩৪ জন শিশু নতুন করে হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে, যা দেশের সামগ্রিক জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর তীব্র চাপ সৃষ্টি করেছে।
সরকারি পরিসংখ্যানের গভীর বিশ্লেষণে দেখা যায়, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে শুরু হওয়া হামের এই দেশব্যাপী প্রাদুর্ভাবে এ পর্যন্ত মোট ৬৩১ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ল্যাবরেটরিতে রোগ শনাক্ত হওয়ার পর মারা গেছে ৯২ শিশু এবং বাকি ৫৩৯ জন শিশু মারা গেছে হামের তীব্র উপসর্গ নিয়ে। গত প্রায় তিন মাসে দেশে মোট ৮১ হাজার ৮৪ জন শিশুর শরীরে হামের লক্ষণ দেখা দিয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে সিংহভাগ তথা ৬৬ হাজার ১৭০ জন শিশুকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে। তবে চিকিৎসার পর এ পর্যন্ত ৬২ হাজার ২৯২ জন শিশু সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে।
রাজধানীর মহাখালীতে অবস্থিত ডিএনসিসি ডেডিকেটেড কোভিড-১৯ হাসপাতালসহ দেশের প্রধান সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালগুলোতে বর্তমানে হামে আক্রান্ত শিশুদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ করা গেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ৯৩৩ জন হাম রোগীকে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। একই সময়ে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে ১ হাজার ১৪ জন শিশু। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, শিশুদের শরীরে তীব্র জ্বর, চোখ লাল হওয়া, সর্দি-কাশি এবং চামড়ায় লালচে গুটি বা র্যাশ দেখা দিলে কোনো ধরনের অবহেলা না করে অনতিবিলম্বে নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে আসতে হবে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা দেশজুড়ে হামের এই আকস্মিক বিস্তারের পেছনে শিশুদের নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে (EPI) সাম্প্রতিক কোনো ঘাটতি বা পুষ্টিহীনতা কাজ করছে কিনা, তা খতিয়ে দেখার জন্য সরকারের প্রতি তাগিদ দিয়েছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আক্রান্ত এলাকাগুলোতে জরুরি লজিস্টিক সাপোর্ট এবং সম্পূরক টিকাদান কার্যক্রম (Supplementary Immunization Activities) জোরদার করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এবং ইউনিসেফের প্রটোকল অনুযায়ী, আক্রান্ত শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল সরবরাহ এবং আইসোলেশন নিশ্চিত করার জন্য মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীদের বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।



