দেশে চলমান উদ্বেগজনক হামের প্রাদুর্ভাবে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ছয়জন মারা গেছেন। নিহতদের প্রত্যেকেই হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন ছিলেন। নতুন এই প্রাণহানির ঘটনা নিয়ে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে হাম ও হামের উপসর্গে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯০৮ জনে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত বুলেটিং সূত্রে রোববার (১৬ আগস্ট) এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শনিবার সকাল আটটা থেকে রোববার সকাল আটটা পর্যন্ত এই মৃত্যুর ঘটনাগুলো ঘটে। এ সময়ে নিশ্চিতভাবে শনাক্ত হওয়া রোগীদের মাঝে নতুন কোনো মৃত্যু না হলেও উপসর্গযুক্ত ৬ জন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, বিগত পাঁচ মাসে হামের প্রাদুর্ভাবে মোট মৃতের মধ্যে ৯৯ জন নিশ্চিতভাবে আক্রান্ত রোগী ছিলেন। বাকি ৮০৯ জন মারা গেছেন হামের স্পষ্ট লক্ষণ ও উপসর্গ নিয়ে। আক্রান্তের তালিকায় বয়সভিত্তিক সুনির্দিষ্ট তথ্য নিয়মিত বুলেটিনে না থাকলেও এপিডেমিওলজিস্ট বা রোগতত্ত্ববিদেরা বলছেন, হাম যেকোনো বয়সী মানুষকে সংক্রমিত করতে পারলেও সাধারণত শিশুই এর প্রধান শিকার।
সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় দেশজুড়ে নতুন করে ১ হাজার ২১ জনের শরীরে হামের বিভিন্ন উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে। এর ফলে ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত দেশে মোট ১ লাখ ৪২ হাজার ৭৯৭ জন উপসর্গযুক্ত রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন বা নিবন্ধিত হয়েছেন। একই সময়ে ল্যাবরেটরিতে নিশ্চিত হওয়া নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে ৮০ জন। সব মিলিয়ে দেশে এ পর্যন্ত নিশ্চিত হাম আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭ হাজার ৮৮০ জনে।
রোগীদের হাসপাতালে ভর্তি ও সুস্থতার বিষয়ে বুলেটিনে বলা হয়, গত পাঁচ মাসে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন মোট ১ লাখ ২৪ হাজার ৪৫৭ জন। তাঁদের মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১ লাখ ১৯ হাজার ৯৩৯ জন। হাসপাতালে চাপ থাকলেও অধিকাংশ শিশুই চিকিৎসা শেষে আরোগ্য লাভ করছে।
বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যান পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়, গত একদিনে মারা যাওয়া ছয়জনের মধ্যে তিনজনই ঢাকা বিভাগের। এছাড়া বাকি তিনজনের মধ্যে একজন সিলেট, একজন রাজশাহী এবং অন্যজন ময়মনসিংহ বিভাগের বাসিন্দা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে টিকাদান কর্মসূচির পাশাপাশি সতর্কতামূলক স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানানো হচ্ছে।



