বিগত ২০২৫ সালে দেশের সীমান্ত ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষায় অভাবনীয় সাফল্য দেখিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বছরব্যাপী পরিচালিত বিশেষ অভিযানগুলোতে প্রায় ১ হাজার ৯০৮ কোটি ২৮ লাখ টাকা মূল্যের চোরাচালান পণ্য উদ্ধার করা হয়েছে। বিজিবি সদর দপ্তর থেকে প্রকাশিত বার্ষিক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়, যা দেশের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় বাহিনীর কঠোর অবস্থানের বহিঃপ্রকাশ।
জব্দকৃত পণ্যের তালিকায় বিলাসদ্রব্য থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী—সবই রয়েছে। বিশেষ করে ৬০ কেজির বেশি স্বর্ণ এবং বিপুল পরিমাণ তৈরি পোশাক, কসমেটিক্স ও চিনির চালান উদ্ধার করা হয়েছে। শুধু পণ্যই নয়, দেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে পারে এমন বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদও বিজিবি’র জালে ধরা পড়েছে। এর মধ্যে অত্যাধুনিক পিস্তল, হ্যান্ড গ্রেনেড এবং মর্টার শেল উদ্ধার বাহিনীর সক্ষমতারই প্রমাণ দেয়।
মাদক নিয়ন্ত্রণেও বিজিবি’র জিরো টলারেন্স নীতি প্রতিফলিত হয়েছে। গত এক বছরে দেড় কোটির কাছাকাছি ইয়াবা ট্যাবলেট এবং বিপুল পরিমাণ ক্রিস্টাল মেথ আইস জব্দ করা হয়েছে। মাদক পাচার রোধে সীমান্ত এলাকায় টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধির ফলে এই সাফল্য এসেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
আইনি পদক্ষেপের ক্ষেত্রেও বিজিবি ছিল আপসহীন। চোরাচালানে জড়িত থাকার অভিযোগে ২,৩৩৪ জনকে গ্রেপ্তার করার পাশাপাশি অবৈধ সীমান্ত পারাপারের দায়ে বাংলাদেশিসহ ১১ হাজারের বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে। বিশেষ করে মিয়ানমার ও ভারতের নাগরিকদের অনুপ্রবেশ রোধে বিজিবি’র কঠোর ভূমিকা সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।



