পরাশক্তি পাকিস্তানকে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে হোয়াইটওয়াশ করে বিশ্ব ক্রিকেটে এক নতুন এবং গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় রচনা করেছে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল। সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ম্যাচের পঞ্চম তথা শেষ দিন সকালে সফরকারী পাকিস্তানকে দ্রুত অলআউট করে এই অনন্য ইতিহাস গড়েছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। এর মাধ্যমে জিম্বাবুয়ের পর টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে দ্বিতীয় কোনো প্রতিপক্ষ হিসেবে পাকিস্তানকে টানা চারটি টেস্টে হারানোর গৌরব অর্জন করল বাংলাদেশ। একই সাথে নিজেদের দীর্ঘ টেস্ট ইতিহাসে এই প্রথম টানা চার ম্যাচে জয়ের স্বাদ পেয়ে অনন্য এক মাইলফলক স্পর্শ করল টাইগাররা, যা দেশের ক্রিকেটকে বিশ্বমঞ্চে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
বাংলাদেশের জন্য এই অবিস্মরণীয় মুহূর্তটি যতটা আনন্দের ও ঐতিহাসিক, ঠিক ততটাই হতাশাজনক ও লজ্জার পাকিস্তানের ক্রিকেটের জন্য। তবে নিজেদের দলের এমন চরম বিপর্যয়ের দিনেও প্রতিপক্ষ বাংলাদেশের প্রাপ্য কৃতিত্ব দিতে এতটুকু কার্পণ্য করেননি পাকিস্তানের সাবেক কিংবদন্তি উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান রশিদ লতিফ। পাকিস্তানের একটি জনপ্রিয় স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেলকে দেওয়া এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে রশিদ লতিফ বাংলাদেশ দলের কৌশল ও সামর্থ্যের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় স্বীকার করেছেন যে, বিশ্ব ক্রিকেটের মানচিত্রে বাংলাদেশের ক্রিকেট আগের চেয়ে অনেক দূর এগিয়ে গেছে।
সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশ দল কেবল নিজেদের চেনা কন্ডিশন বা হোম অ্যাডভান্টেজ নিয়ে জিতেছে কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে সাবেক এই পাকিস্তানি অধিনায়ক বেশ যুক্তিযুক্ত কাউন্টার দেন। রশিদ লতিফ বলেন, “না, একে শুধু হোম কন্ডিশনের জয় বলে ছোট করার সুযোগ নেই। বাংলাদেশ তো এর আগে পাকিস্তানের মাটিতেই আমাদের ২-০ ব্যবধানে টেস্ট সিরিজে হারিয়ে এসেছিল। তাদের আসলে যে জিনিসটি দরকার ছিল, তা হলো আত্মবিশ্বাস। বাংলাদেশ দল এখন পাকিস্তানের দুর্বল দিকগুলো খুব নিখুঁতভাবে বুঝতে পেরেছে এবং সেই অনুযায়ী গেমপ্ল্যান সাজিয়ে মাঠের পারফরম্যান্সে তার সফল বাস্তবায়ন ঘটাচ্ছে।”
বাংলাদেশ ক্রিকেটের এই আধুনিক পরিবর্তনের প্রশংসা করে রশিদ লতিফ আরও উল্লেখ করেন যে, এটি আর সেই পুরোনো বাংলাদেশ দল নয়— যারা শুধু স্পিন বা টার্নিং ট্র্যাক বানিয়ে প্রতিপক্ষকে কাবু করতে চাইত। বর্তমান বাংলাদেশ দলে এখন বিশ্বমানের ফাস্ট বোলার এবং স্পিনারদের এক দুর্দান্ত সমন্বয় তৈরি হয়েছে, যা যেকোনো কন্ডিশনে প্রতিপক্ষকে ধসিয়ে দিতে সক্ষম। একই সাথে তিনি বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-১৯ দল, ‘এ’ দল এবং তৃণমূল পর্যায়ের পাইপলাইনকে এই সাফল্যের মূল ভিত্তি হিসেবে চিহ্নিত করেন। লতিফের মতে, দীর্ঘ মেয়াদে পরিশ্রম ও সঠিক কাঠামোগত পরিকল্পনার ফলেই বাংলাদেশ আজ বিশ্ব ক্রিকেটে অন্যতম ধারাবাহিক দলে পরিণত হতে পেরেছে।



