বরিশাল মেইল ডেস্ক:
দুর্গোৎসবের আজ মহাসপ্তমী। ভোরে ঢাক-ঢোল-কাঁসর বাজিয়ে দশভুজা দেবী তিথিবিহিত পূজা শেষে সপ্তমীবিহিত পূজা অনুষ্ঠিত হবে। গত ২ অক্টোবর মহালয়ার মাধ্যমে দেবীপক্ষ ও পুণ্যলগ্নের শুরু হয়। এরপর গত মঙ্গলবার শ্রী পঞ্চমীতে দেবীর বোধন ও গতকাল বুধবার ষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান এ উৎসবের সূচনা হয়।
গতকাল ষষ্ঠীতে সকালে বিল্ববৃক্ষ (বেলগাছ তলে) দেবীর আবাহন, সংকল্প ও ‘ত্রিনয়নী’ দুর্গাদেবীর নিদ্রা (বোধন) ভাঙিয়ে পূজায় দেবীকে বরণ করা হয়। পূজার্চনা আর দেবীর আরাধনা করেন তার ভক্তরা। আজ মহাসপ্তমীতে দেবীকে ষোড়শ উপাচার (ষোলটি উপাদানে) অর্থাৎ আসন, বস্ত্র, নৈবেদ্য, পুষ্পমাল্য ও চন্দন দিয়ে বরণ ও পূজার্চনা করা হবে। পূজার্চনার পর দেবীর কৃপালাভের আশায় তার চরণে পুষ্পাঞ্জলি দেবেন ভক্তরা।
গতকাল থেকে সারা দেশের ৩১ হাজারের বেশি স্থায়ী ও অস্থায়ী পূজামন্ডপে চন্ডী ও মন্ত্রপাঠ, ঢাকের বাদ্য আর মানুষের উপস্থিতিতে মুখর হয়ে ওঠে। মহাসপ্তমী উদযাপন শেষে আগামীকাল শুক্রবার হবে মহাঅষ্টমী। এদিন বিহিত পূজার্চনাসহ ব্রতোপবাস ও পুষ্পাঞ্জলির পাশাপাশি অনুষ্ঠিত হবে দুর্গোৎসবের অন্যতম আকর্ষণ কুমারী পূজা। কুমারী বালিকার মধ্যে শুদ্ধ নারীর রূপ কল্পনা করে তাকে দেবীজ্ঞানে পূজা করবেন ভক্তরা।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের তথ্য মতে, এবার সারা দেশে ৩১ হাজার ৪৬১টি ম-পে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এর মধ্যে ঢাকা মহানগরে পূজা হবে ২৫২টি মন্ডপে। গত বছরের চেয়ে এবার ঢাকায় চারটি মন্ডপ বেড়েছে। ২০২৩ সালে সারা দেশে পূজা হয়েছিল ৩২ হাজার ৪০৬টি ম-পে। গতকাল থেকে পূজাম-পগুলোতে মানুষের ভিড় বেড়েছে। মন্ডপগুলোকে আকর্ষণীয় সাজে সাজিয়ে আলোকসজ্জিত করা হয়েছে।
ঢাকায় ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরসহ সারা দেশের মন্ডপগুলোয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে পূজার্চনার পাশাপাশি পাঁচ দিনব্যাপী নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। ভক্তিমূলক সংগীতানুষ্ঠান, আরতি প্রতিযোগিতা, মহাপ্রসাদ বিতরণ করা হবে। রাজধানীতে রমনা কালীমন্দির ও আনন্দময়ী আশ্রম, রামকৃষ্ণ মিশন ও মঠ পূজামন্ডপ, বরদেশ্বরী কালীমাতা মন্দির, পুরান ঢাকার শাঁখারীবাজার, সূত্রাপুর, তাঁতীবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক আয়োজনে পূজার আয়োজন করা হয়েছে। দুর্গাপূজা উপলক্ষে দেশ জুড়ে নেওয়া হয়েছে কড়া নিরাপত্তাব্যবস্থা। মন্ডপগুলোয় থাকবে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা। বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর বলেন, ‘গত মঙ্গলবার পর্যন্ত সারা দেশে প্রতিমা ভাঙচুর ও হামলার ১৯টি ঘটনার তথ্য আমরা পেয়েছি। তবে আজ (গতকাল) ষষ্ঠী পর্যন্ত কোনো অনাকাক্সিক্ষত ঘটনার খবর আসেনি। সরকার নিরাপত্তার বিষয়ে খুব আন্তরিক। আশা করি ভালোভাবে পূজা উদযাপিত হবে।’



