― Advertisement ―

পারভীন হত্যা: খুনি রসু খাঁর মৃত্যুদণ্ড বহাল হাই কোর্টে

চাঁদপুরের পারভীন হত্যা মামলায় আলোচিত খুনি রসু খাঁর মৃতুদণ্ড বহাল রেখেছে হাই কোর্ট।মঙ্গলবার বিচারপতি সৈয়দ মো. জিয়াউল করিম ও বিচারপতি কে এম ইমরুল কায়েশের...

শ্রীবরদীতে খুনের পর ইউপি সদস্যের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ; এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন

শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলায় জমিজমা সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে এক ভয়াবহ ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই নির্মম সহিংসতায় দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে আশরাফুল ইসলাম (৩২) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। সংঘর্ষের ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। ঘটনার পর চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ স্বজন ও এলাকাবাসী অভিযুক্ত ইউপি সদস্যের বাড়িতে হামলা চালিয়ে অগ্নিসংযোগ করে। সোমবার (১৮ মে, ২০২৬) সকালে উপজেলার খড়িয়া কাজিরচর ইউনিয়নের মাদারপুর গ্রামে এই আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতিমূলক ঘটনাটি ঘটে।

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মাদারপুর গ্রামের বাসিন্দা নিহত আশরাফুলের পরিবারের সঙ্গে স্থানীয় ইউপি সদস্য নূরুল আমিনের দীর্ঘ দিন ধরে জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ চলছিল। আজ সকালে এই নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে তীব্র কথা-কাটাকাটি এবং একপর্যায়ে তা তুমুল উত্তেজনায় রূপ নেয়। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই উভয় পক্ষের শত শত মানুষ লাঠিসোটা, ঢাল-শার্কিসহ বিভিন্ন দেশীয় মারণাস্ত্র নিয়ে একে অপরের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। এতে ইউপি সদস্য নূরুল আমিনের সমর্থকদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আশরাফুল ইসলাম রক্তাক্ত ও গুরুতর জখম হন।

আশঙ্কাজনক অবস্থায় স্থানীয় বাসিন্দারা আশরাফুলকে উদ্ধার করে দ্রুত শ্রীবরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর পূর্বেই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তাঁর মৃত্যু হয় এবং কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। সংঘর্ষে আহত বাকি ১৫ জনকে তাৎক্ষণিকভাবে শ্রীবরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের আঘাত অত্যন্ত গুরুতর হওয়ায় তাদের অবস্থা বর্তমানে আশঙ্কাজনক।

যুবকের মৃত্যুর খবর গ্রামে পৌঁছানো মাত্রই নিহতের স্বজন ও বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসী আইন নিজেদের হাতে তুলে নেয়। তারা অভিযুক্ত ইউপি সদস্য নূরুল আমিনের বসতবাড়িতে আকস্মিক হামলা চালায় এবং ভাঙচুর শেষে পেট্রোল ঢেলে অগ্নিসংযোগ করে। মুহূর্তের মধ্যে আগুনের লেলিহান শিখা বাড়ির কয়েকটি কক্ষে ছড়িয়ে পড়ে এবং ভেতরের সমস্ত আসবাবপত্র ভস্মীভূত হয়। খবর পেয়ে শেরপুর জেলা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় নতুন করে দাঙ্গা রোধে অতিরিক্ত পুলিশ মোতাযেন করা হয়েছে এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।