― Advertisement ―

পারভীন হত্যা: খুনি রসু খাঁর মৃত্যুদণ্ড বহাল হাই কোর্টে

চাঁদপুরের পারভীন হত্যা মামলায় আলোচিত খুনি রসু খাঁর মৃতুদণ্ড বহাল রেখেছে হাই কোর্ট।মঙ্গলবার বিচারপতি সৈয়দ মো. জিয়াউল করিম ও বিচারপতি কে এম ইমরুল কায়েশের...

শুধু দরিদ্র নয়, দেশে বেশি নারী নির্যাতনও বরিশালে

বিশেষ প্রতিনিধি:
দেশে সবচেয়ে বেশি দরিদ্র মানুষের বসবাস বরিশাল বিভাগে। এই হার ২৬ দশমিক ৬ শতাংশ। আর চট্টগ্রাম বিভাগে সবচেয়ে কম দারিদ্র্যতার হার, ১৫ দশমিক ২ শতাংশ।

গত ৩০ জানুয়ারি বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) প্রকাশিত ‘বাংলাদেশের দারিদ্র মানচিত্র ২০২২’- এ এ তথ্য উঠে এসেছিল। কিন্তু শুধু দারিদ্র্য নয়, বরিশাল বিভাগে নারীদের প্রতি সহিংসা ও নির্যাতনের হারও সারাদেশের চেয়ে বেশি বলে জরিপে উঠে এসেছে। অন্যদিকে সবচেয়ে কম নির্যাতনের শিকার হয় সিলেটের নারীরা।

গতকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) এবং জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল (ইউএনএফপিএ) যৌথভাবে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে নারীর প্রতি সহিংসতা জরিপ ২০২৪-এর প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ২০১১ এবং ২০১৫ সালের জরিপের পরে তৃতীয়বারের মতো ২০২৪ সালে জরিপটি করা হলো। এতে বরিশালের নারী নির্যাতনের হার সারাদেশের চেযে বেশি বলে তথ্য উঠে আসে।

বিবিএসের ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশে জীবনে একবার হলেও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ৭৫ দশমিক ৯ শতাংশ নারী। গ্রামে এর হার ৭৬ শতাংশ এবং শহরে ৭৫ দশমিক ৬ শতাংশ।

তবে বিভাগওয়ারী বরিশালে নারী নির্যাতন বেশি; এই হার ৮১ দশমিক ৫ শতাংশ। সব থেকে কম সিলেটে ৭২ দশমিক ১ শতাংশ। বরিশালের পরেই দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নারী নির্যাতনের হার বেশি খুলনায়; এর হান ৮১ দশমিক ৫ শতাংশ। এ ছাড়া ঢাকায় ৭২ দশমিক ৯ শতাংশ, চট্টগ্রামে ৭৮ দশমিক ৫ শতাংশ, ময়মনসিংহে ৭৫ দশমিক ১ শতাংশ, রাজশাহীতে ৭৪ দশমিক ৫ শতাংশ ও রংপুরে ৭৪ দশমিক ১ শতাংশ নারী জীবনে একবার হলেও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।

সহিংসতার মূল কারণ ও প্রতিকারের উপায়:

নারী অধিকার নিয়ে কাজ করেন এমন ব্যক্তিরা বলছেন, বরিশাল বিভাগে নারী নির্যাতনের এই প্রবণতা দারিদ্র্যের সঙ্গে সম্পর্কিত। আর দারিদ্র্যের সঙ্গে সম্পর্কিত হচ্ছে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বিপদাপন্নতা। বরিশাল একটি দুর্যোগপ্রবণ এলাকা। এখানকার নারীরা দুর্যোগকালে ও পরে স্বামীর বা পরিবারের অন্য সদস্যদের নির্যাতনের শিকার হন। একই অর্থনৈতিক নির্ভরশীলতা তাদের নির্যাতনকে তরান্বিত করছে। কারন, এ অঞ্চলের নারীদের আয় রোজগার সীমিত। এ জন্য বেশিরভাগ নারী পুরুষের ওপর নির্ভরশীল। আর্থিক স্বাধীনতা না থাকলে তারা নির্যাতনের শিকার হলেও সহজে বেরিয়ে আসতে পারেন না।

একইভাবে নির্যাতনের বিরুদ্ধে মামলা করলেও অনেক সময় বিচার হয় না। পুলিশের কাছে অভিযোগ করলেও সামাজিক ও পারিবারিক চাপের কারণে নারীরা অনেক সময় তা তুলে নিতে বাধ্য হন।

সুশাসনের জন্য নাগরিকের বরিশাল জেলা কমিটির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক শাহ সাজেদা বলেন, দারিদ্র্য নারীদের ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে একটি বড় বাধা। আর এতে নারীদের সব ক্ষেত্রেই পুরুষের ওপর নির্ভরশীলতাকে বাড়িয়ে দেয়। দুর্যোগ, শিক্ষার অধিকার না পাওয়া, সচেতনতাবোধের অভাব, অপুষ্টি, বাল্য বিবাহ, পুরুষের বহুবিবাহের প্রবণতা এবং নানা কুসংস্কার এ অঞ্চলের নারীদের আষ্টেপৃষ্টে বেঁধে রেখেছে। একইসঙ্গে নির্যাতনের ক্ষেত্রে বিচারক্ষেত্রে অভিগম্যতা সীমিত এবং বিচার না পাওয়ার সংস্কৃতি ক্রমশ নারীদের নির্যাতনের বিষয়টিকে কোনো অপরাধ নয় বরং স্বাভাবিক সামাজিক প্রথা হিসেবে দেখার এক ধরনের অসুস্থ দুস্টিভঙ্গি গড়ে উঠেছে। এটা রোধ করতে হলে নারী শিক্ষার প্রসার, অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে নারীর প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

বিবিএস জরিপেও এক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে, তা হলো- সহিংসতার ঝুঁকির ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য তারতম্য, যেমন- দুর্যোগপ্রবণ এলাকার নারীরা তাঁদের জীবদ্দশায় এবং বিগত ১২ মাসের মধ্যে, অ-দুর্যোগ-প্রবণ এলাকার নারীদের তুলনায় জীবনসঙ্গী বা স্বামীর দ্বারা বেশি মাত্রায় সহিংসতার সম্মুখীন হন। জীবনসঙ্গী বা স্বামীর হাতে সহিংসতার মাত্রা বেশি হলেও সহিংসতার শিকার নারীদের প্রায় ৬৪ শতাংশ তাদের সঙ্গে ঘটে যাওয়া সহিংসতার কথা কাউকে কখনো বলেননি। এটাকে তাঁরা দাম্পত্যের খুঁটিনাটি ঘটনা হিসেবে স্বাভাবিক মনে করে মেনে নিয়েছেন।