ইনকিলাব মঞ্চের কেন্দ্রীয় মুখপাত্র শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য রহস্য উন্মোচনে পশ্চিমবঙ্গের শীর্ষ রাজনীতিক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক বক্তব্যকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার দাবি জানিয়েছে নিহতের পরিবার। সোমবার (৮ জুন, ২০২৬) সকাল ১১টায় ঝালকাঠির নলছিটি প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক আবেগঘন সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানান শহীদ হাদির বোন মাছুমা হাদি। তিনি বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দেওয়া বক্তব্যকে কূটনৈতিক চ্যানেলে গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে এই আন্তর্জাতিক হত্যাকাণ্ডের সাথে কারা জড়িত, তা অবিলম্বে স্পষ্ট করা রাষ্ট্রের প্রধান দায়িত্ব। যদি দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় এর রহস্য উদঘাটন সম্ভব না হয়, তবে আন্তর্জাতিক আদালতের সহায়তা নিয়ে ভারতের ওপর চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে সত্যতা নিশ্চিত করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে দেশের সরকারপ্রধানের প্রতি সরাসরি বিচার নিশ্চিতের আকুল আবেদন জানান মাছুমা হাদি। তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমাদের পরিবারের বিনীত অনুরোধ, আপনি অতি দ্রুত আমার ভাই ওসমান হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিতের মাধ্যমে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করুন। এই হত্যাকাণ্ডের ইনসাফ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এ দেশে ইনসাফের প্রতীক ওসমান হাদি হওয়ার অনুপ্রেরণা পাবে।” পরিবারটির অভিযোগ, এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী, অর্থের জোগানদাতা এবং পর্দার আড়ালের নির্দেশদাতাদের আড়াল করতেই একটি চক্র পর্দার আড়াল থেকে কলকাঠি নাড়ছে।
হাদি হত্যা মামলার আসামিদের নির্বিঘ্নে সীমান্ত অতিক্রম করে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উদাসীনতাকে দায়ী করেন মাছুমা হাদি। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর প্রকাশ্য দিবালোকে ওসমান হাদিকে গুলি করার পর খুনিরা কীভাবে সীমান্ত পার হয়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেল? এই পলায়নের নেপথ্যে রাষ্ট্রীয় কোনো বিশেষ বাহিনী কিংবা প্রভাবশালী কোনো রাজনৈতিক দলের প্রভাবশালী নেতাকর্মীদের যোগসাজশ বা গভীর কোনো ষড়যন্ত্র রয়েছে কিনা, তা উচ্চপর্যায়ের বিচার বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখার আহ্বান জানান তিনি।
একই সাথে মামলার তদন্তকারী সংস্থার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, বারবার কেন চার্জশিট বা অভিযোগপত্র জমা দেওয়ার সময় পরিবর্তন করা হচ্ছে, তা আজ বাংলাদেশের মানুষ জানতে চায়। সংবাদ সম্মেলন থেকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যদি হাদি হত্যার বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে আইনি উদাসীনতা বজায় রাখেন, তবে রাষ্ট্রের এই গুরুত্বপূর্ণ চেয়ার বা পদটি ছেড়ে দিয়ে জনগণের পছন্দের অন্য কাউকে সেখানে স্থলাভিষিক্ত করতে হবে। সংবাদ সম্মেলনে হাদির ভগ্নিপতি মো. আমির হোসেনসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।



