― Advertisement ―

পারভীন হত্যা: খুনি রসু খাঁর মৃত্যুদণ্ড বহাল হাই কোর্টে

চাঁদপুরের পারভীন হত্যা মামলায় আলোচিত খুনি রসু খাঁর মৃতুদণ্ড বহাল রেখেছে হাই কোর্ট।মঙ্গলবার বিচারপতি সৈয়দ মো. জিয়াউল করিম ও বিচারপতি কে এম ইমরুল কায়েশের...

মনপুরায় ৩ মাস ধরে বিকল একমাত্র অ্যাম্বুলেন্স; খোলা ভ্যানগাড়িতে রোগী পরিবহনে বাড়ছে উপকূলবাসীর মৃত্যুঝুঁকি

ভোলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা মনপুরার দেড় লাখ মানুষের চিকিৎসা পাওয়ার একমাত্র রাষ্ট্রীয় ভরসা ‘মনপুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স’। তবে হাসপাতালটির একমাত্র সরকারি অ্যাম্বুলেন্সটি গত তিন মাস ধরে হাসপাতাল চত্বরে অচল ও বিকল অবস্থায় পড়ে থাকায় উপকূলের স্বাস্থ্যসেবায় চরম বিপর্যয় নেমে এসেছে। হৃদরোগ, প্রসূতি মা ও জরুরি অস্ত্রোপচারের মতো গুরুতর জটিল রোগীদের নিরুপায় হয়ে খোলা ভ্যানগাড়িতে করে নদীর ঘাট পর্যন্ত পরিবহন করতে হচ্ছে। এতে করে ঝড়-বৃষ্টি ও তীব্র গরমের মধ্যে প্রত্যন্ত এই অঞ্চলের সাধারণ মানুষের চিকিৎসাকালীন মৃত্যুঝুঁকি বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

আইনি ও প্রশাসনিক কাঠামোর দিকে তড়িৎ নজর দিলে দেখা যায়, ২০১৪ সালে হাসপাতালটিকে ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করে নতুন ভবন উদ্বোধন করা হলেও দীর্ঘ ১২ বছরেও নতুন জনবল কাঠামো অনুমোদন করা হয়নি। হাসপাতালটি এখনো এক দশক আগের ৩১ শয্যার পুরনো ও অপর্যাপ্ত জনবল কাঠামো দিয়েই কোনোমতে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে। একদিকে তীব্র জনবল সংকট, অন্যদিকে বিদ্যুৎহীনতা—দিনে-রাতে মিলিয়ে হাসপাতালটিতে ৪ থেকে ৫ ঘণ্টার বেশি বিদ্যুৎ সরবরাহ থাকে না। ফলে ভুক্তভোগী ও চিকিৎসাধীন রোগীরা জেনারেটর বা বিকল্প ব্যাকআপ না থাকায় এই তীব্র দাবদাহে হাসপাতালের ভেতরেই চরম মানবিক সংকটের মুখোমুখি হচ্ছেন।

সম্প্রতি আরজু বেগম নামের এক মুমূর্ষু রোগীকে গভীর রাতে অচেতন অবস্থায় ভ্যানগাড়িতে করে নদীর ঘাটে নেওয়া এবং সেখান থেকে স্পিডবোটযোগে নোয়াখালী পাঠানোর একটি হৃদয়বিদারক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হলে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। ভুক্তভোগী রোগীর স্বজনরা জানান, রাতে রোগীর অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা জরুরি ভিত্তিতে ঢাকায় স্থানান্তরের (রেফার) পরামর্শ দেন। তবে অ্যাম্বুলেন্স বিকল থাকায় গভীর রাতে কোনো বিকল্প না পেয়ে খোলা ভ্যানগাড়ি এবং উত্তাল মেঘনা নদীতে ছোট ট্রলারের মাধ্যমে নোয়াখালী হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রোগীকে ঢাকায় পাঠাতে বাধ্য হন তাঁরা।

মনপুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বরত স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. কবির সোহেল চরম সংকটের সত্যতা স্বীকার করে জানান, চিকিৎসকরা সীমিত সম্পদ ও লোকবল নিয়েও দিন-রাত দ্বীপের মানুষকে চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছেন। অ্যাম্বুলেন্সটি সচল করতে প্রায় তিন লাখ টাকার প্রয়োজন, যা স্থানীয় বাজেটে সংকুলান না হওয়ায় বিষয়টি লিখিত ও মৌখিকভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তিনি আরও জানান, স্থানীয় সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম নয়ন নতুন একটি অ্যাম্বুলেন্স বরাদ্দের প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। তবে বর্তমান সংকট কাটাতে কোনো সহৃদয় ব্যক্তি বা সংস্থা জরুরি ভিত্তিতে ব্যক্তিগত অনুদান দিয়ে এগিয়ে এলে দ্বীপের অসহায় রোগীদের জীবন রক্ষা করা সম্ভব হবে।