ভোলার দ্বীপ উপজেলা মনপুরার পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা এবং সবুজায়নের লক্ষ্যে ৪৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে একযোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। বুধবার (১৫ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টায় উপজেলার হাজিরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় চত্বরে চারা গাছ রোপণের মাধ্যমে স্থানীয় প্রশাসন ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে এই পরিবেশবান্ধব উদ্যোগের সূচনা করা হয়। উপকূলীয় অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা এবং কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মাঝে প্রকৃতি সচেতনতা গড়ে তোলার অংশ হিসেবে এই বৃহৎ সামাজিক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন।
এই বিশেষ কর্মসূচির অধীনে উপজেলার নির্বাচিত প্রত্যেকটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ ও চারপাশের পরিত্যক্ত জমিতে বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ ও ওষুধি চারা রোপণ করা হচ্ছে। স্থানীয় পরিবেশ কর্মীদের মতে, মনপুরার মতো দুর্যোগপ্রবণ ও নদী ভাঙনকবলিত দ্বীপ অঞ্চলের জন্য এ ধরনের বনায়ন কর্মসূচি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি কেবল মাটির ক্ষয়রোধই করবে না, বরং দীর্ঘমেয়াদে বিদ্যালয়গুলোর প্রাঙ্গণে একটি স্বাস্থ্যকর ও ছায়াঘন পরিবেশ তৈরিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে, যা শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য উপযোগী।
হাজিরহাট প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আয়োজিত এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে চারা রোপণ করেন উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ডা. কামাল উদ্দিন, সহ-সভাপতি সেলিম মোল্লা, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. কামরুল হাসান এবং স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সহ-সভাপতি মো. খোকন। এছাড়া অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন হাজিরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মনোয়ারা বেগমসহ বিদ্যালয়ের সর্বস্তরের শিক্ষক, শিক্ষার্থীবৃন্দ এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। অতিথিরা এ সময় রোপণ করা চারাগুলোর নিয়মিত পরিচর্যা নিশ্চিত করার জন্য শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান।
উপকূলীয় এই বনায়ন কর্মসূচিটি স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে ব্যাপকভাবে সমাদৃত হয়েছে। পরিবেশবিদদের মতে, তৃণমূল পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এমন বনায়ন কার্যক্রম গ্রিনহাউস গ্যাসের প্রভাব কমাতে এবং স্থানীয় বাস্তুসংস্থানকে পুনরুজ্জীবিত করতে কার্যকর অবদান রাখে। উপজেলার সবকটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে তা ভোলার সামগ্রিক পরিবেশগত টেকসই উন্নয়নে একটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্মকর্তা ও স্থানীয় বাসিন্দারা।



