কেন্দ্রীয় সরকারের দেয়া প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থতার অভিযোগে আবারো রাজপথে নামার চূড়ান্ত ঘোষণা দিয়েছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। আগামী ৫ সেপ্টেম্বর শিক্ষক দিবসের দিনে দিল্লির ঐতিহাসিক ইন্ডিয়া গেটে বিশাল সমাবেশের ডাক দিয়েছে সংগঠনটি। সেখানে শান্তিপূর্ণ জমায়েত শেষে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে দিল্লি পুলিশের সদর দপ্তর ঘেরাও করার কর্মসূচি ঘোষণা করেছে সিজেপির ন্যাশনাল ওয়ার্কিং কমিটি।
সিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব অভিজিৎ দিপকে, আশুতোষ রাংকা এবং সৌরভ দাস যৌথ বিবৃতিতে জানান, গত ২৫ জুলাই কেন্দ্র সরকারের আশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে তাঁরা যন্তর মন্তরের দীর্ঘ আন্দোলন স্থগিত করেছিলেন। আন্দোলন প্রত্যাহারের শর্ত হিসেবে তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা, আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত সব এফআইআর বাতিল এবং আত্মঘাতী নিট (NEET) পরীক্ষার্থীদের পরিবারকে ১ কোটি রুপি করে ক্ষতিপূরণের দাবি জানানো হয়েছিল। যদিও ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেছেন, কিন্তু এক মাস পার হয়ে গেলেও বাকি দুটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত পূরণে সরকার কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।
সংগঠনটির অভিযোগ, দিল্লি পুলিশ প্রযুক্তির দোহাই দিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে শিক্ষার্থীদের মামলা ঝুলিয়ে রাখছে। ‘ফেশিয়াল রেকগনিশন সিস্টেম’ ব্যবহার করে ২ হাজার ৮৭৩ জন পড়ুয়াকে চিহ্নিত করার পর পুলিশ দাবি করেছে, এদের মধ্যে ৯৮৯ জনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাধের রেকর্ড রয়েছে। তবে পুলিশ প্রশাসনের এই দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও সুপ্রিম কোর্টকে বিভ্রান্ত করার অপকৌশল বলে উড়িয়ে দিয়েছে সিজেপি।
সুপ্রিম কোর্ট গত ১৮ আগস্ট দেশজুড়ে শিক্ষার্থীদের নামে থাকা মোট এফআইআরের তালিকা জমা দেওয়ার নির্দেশ দিলেও সরকার তা জমা দেয়নি বলে অভিযোগ তোলে সিজেপি নেতৃত্ব। সংগঠনের নেতারা বলেন, “আমাদের ধৈর্যকে দুর্বলতা ভাবলে ভুল করবে সরকার।” ৫ সেপ্টেম্বরের প্রতিবাদ মিছিলে পুলিশি নির্যাতনের শিকার শিক্ষার্থী ও আত্মঘাতী নিট পরীক্ষার্থীদের পরিবারগুলো সামনের সারিতে থাকবে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি দিল্লি পুলিশ ও কেন্দ্রীয় সরকার।



