― Advertisement ―

ভারতের সঙ্গে চুক্তির প্রতিবাদে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনে ছাত্র জোটের বিক্ষোভ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে রেল কানেকটিভিটি বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা চুক্তির প্রতিবাদে পুলিশের বাধা অতিক্রম করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে...

প্রকাশ্যে নৃশংসতা, ক্ষোভে উত্তাল দেশ

(এই প্রতিবেদনের কিছু বর্ণনা পাঠকের জন্য অস্বস্তির কারণ হতে পারে)

নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজধানী ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতালের সামনে ব্যবসায়ী লাল চাঁদ ওরফে সোহাগকে গত বুধবার প্রকাশ্য পিটিয়ে ও পাথর মেরে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। এ হত্যাকাণ্ড নিয়ে সমালোচনা যেমন দেখা যাচ্ছে, আবার বিএনপির বিরুদ্ধে বিক্ষোভেরও বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে

হত্যার আগে ব্যবসায়ীক দ্বন্দ্ব মিটমাট করার কথা বলে সোহাগকে ডেকে নিয়ে তাঁকে পিটিয়ে এবং ইট-পাথরের টুকরা দিয়ে আঘাত করে মাথা ও শরীরের বিভিন্ন অংশ থেঁতলে দেওয়া হয়। একপর্যায়ে তাঁকে বিবস্ত্র করা হয়। তাঁর শরীরের ওপর উঠে লাফায় কেউ কেউ। এমন নির্মম দৃশ্য দেখা যায় সিসিটিভি ফুটেজে। প্রকাশ্যে যারা এই নির্মম হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে তাদের বিচারের দাবীতে উত্তাল হয়ে উঠছে দেশ।

আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল

স্বরাষ্ট্র ও আইন উপদেষ্টার বক্তব্য :
ভাঙারি পণ্যের ব্যবসায়ী লাল চাঁদ সোহাগ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের সবাইকে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেছেন, সোহাগ হত্যার মামলা দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হবে । আজ শনিবার সকাল ১০টা ৯ মিনিটের দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে এ কথা জানান।

আজ শনিবার বিকালে বরিশালে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের বিক্ষোভ

নিন্দার ঝড় ও প্রতিবাদ :
নৃশংস এই হত্যাকান্ডের ঘটনায় গভীর নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), গণসংহতি আন্দোলন, এবি পার্টি, গণ অধিকার পরিষদসহ বিভিন্ন দল ও সংগঠন।

হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন ও ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ গতকাল শুক্রবার রাতেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পৃথক বিক্ষোভ মিছিল করে। এ ছাড়াও বিএনপি এই ঘটনার সাথে যুক্ত ব্যক্তিদের দল থেকে আজীবনের জন্য বহিস্কার করে তাদের বিচার দাবি করেছে।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে শুক্রবার রাতে বিক্ষোভ

পুরান ঢাকায় বিক্ষোভ করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও। আজ ছাত্র অধিকার পরিষদ, বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদসহ কয়েকটি সংগঠন এ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে পৃথক বিক্ষোভ কর্মসূচি দিয়েছে। এদিকে সোহাগকে নৃশংসভাবে হত্যার সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ করেছে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। আজ শনিবার বেলা একটার দিকে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে বিক্ষোভে অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেয়।

গ্রেফতার :
সোহাগ হত্যার ঘটনায় পুলিশ ও র‍্যাব পাঁচ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে মাহমুদুল হাসান ওরফে মহিন এলাকায় যুবদল নেতা পরিচয় দিয়ে থাকেন বলে জানা গেছে। আরেকজন হলেন তারেক রহমান ওরফে রবিন। বাকি দুজনের নাম জানা যায়নি।

যুবদলের সংবাদ সম্মেলন:
কেন্দ্রীয় যুবদল সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না আজ সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, সোহাগ হত্যার ঘটনায় ‘আমরা দায় অস্বীকার করিনি। কোনো ঘটনা ঘটলে তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়েছি। সোহাগ হত্যার ঘটনায় গতকাল শুক্রবার( ১১ জুলাই) ৫ জনকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

পরিবারের দাবি :
সোহাগের ভাঙ্গারির ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে প্রতি মাসে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হতো। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় অভিযুক্তরা তার দোকান তালাবদ্ধ করে দেয় বলে দাবি করেছেন সোহাগের পরিবার। বুধবার (৯ জুলাই) বিকেলে সোহাগকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে চাঁদার জন্য জোড় করা হয়। সোহাগ চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে তাকে ঢাকা রাজধানীর স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ মিটফোর্ড হাসপাতালের তিন নম্বর গেটের সামনে নিয়ে প্রকাশ্যে নির্মমভাবে মারধর ও পাথর দিয়ে মাথায় আঘাত করে হত্যা করা হয়।

নিহত লাল চাঁদ ওরফে সোহাগ

মৃত্যু ও দাফন:

শুক্রবার (১১ জুলাই) সকালে নিহত সোহাগের লাশ ঢাকা থেকে বরগুনার নিজ বাড়িতে নিয়ে যান স্বজনরা। পরে বরগুনা সদর উপজেলার ৭ নম্বর ঢলুয়া ইউনিয়নের ইসলামপুর এলাকায় তার মায়ের কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়।

মামলা:
এ ঘটনায় রাজধানীর কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন নিহত সোহাগের বোন মঞ্জুয়ারা বেগম (৪২) মামলাটি করেন। এতে ১৯ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অজ্ঞাতনামা আরও ১৫-২০ জনকে আসামি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি)।

বিচার দাবী:
নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার সোহাগের মেয়ে সোহানা বাবা হত্যার বিচার চেয়েছেন। তিনি বলেন, “আমরা এখন এতিম হয়ে গেছি, এখন কোথায় গিয়ে দাঁড়াব? বাবাকে যারা হত্যা করেছে, আমরা তাদের বিচার চাই।” এছাড়াও নিহত সোহাগের স্ত্রী, বোনসহ স্বজনরা বিচারের দাবী তুলেছেন।

টিবিএম/জ/রা