আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গুলিতে গুরুতর আহত মুন্সিগঞ্জের যুবক শাহাদাত হোসেন শ্যামলকে দুই লাখ টাকা অন্তর্বর্তীকালীন ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। আগামী এক মাসের মধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশের আইজিকে এই অর্থ পরিশোধ করতে বলা হয়েছে। একই সাথে, ভুক্তভোগীকে কেন পাঁচ কোটি টাকা স্থায়ী ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে না—তা জানতে চেয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের প্রতি রুল জারি করেছেন আদালত। মানবাধিকার সংস্থা ‘আইন ও সালিশ কেন্দ্র’ (আসক) কর্তৃক দায়ের করা একটি রিট পিটিশনের প্রাথমিক শুনানি শেষে বুধবার (১৭ জুন) বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি মো. জিয়াউল হকের সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ এই আদেশ প্রদান করেন।
ঘটনার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০১৯ সালের ১৪ মার্চ মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার কামারকান্দা নামক এলাকায় একটি অস্থায়ী চেকপোস্টে মোটরসাইকেল আরোহী শাহাদাত হোসেন শ্যামল পুলিশের আচমকা গুলির শিকার হন। ভুক্তভোগী ও তার বন্ধুদের অভিযোগ, ঢাকার কেরানীগঞ্জ থেকে মুন্সিগঞ্জে যাওয়ার পথে পুলিশের সংকেত পেয়ে তারা যথানিয়মে বাইক থামান। তবে কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই একজন পুলিশ সদস্য অত্যন্ত কাছ থেকে শ্যামলের পা লক্ষ্য করে সরাসরি গুলি চালান। এই ঘটনার পরপরই স্থানীয় প্রশাসন এবং পুলিশ বিভাগ তাদের অনভিপ্রেত কর্মকাণ্ডের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছিল এবং বিষয়টিকে ‘অনিচ্ছাকৃত দুর্ঘটনা’ হিসেবে উল্লেখ করেছিল।
দুর্ঘটনার পরদিন পুলিশ নিজেদের দায় এড়াতে ভুক্তভোগী যুবক ও তার বন্ধুদের বিরুদ্ধে একটি বিতর্কিত ফৌজদারি মামলা দায়ের করে। সিরাজদিখান থানায় রুজু করা ওই মামলায় বেপরোয়া গতিতে বাইক চালানো, সরকারি কাজে বাধা দেওয়া এবং ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্য করার অভিযোগ আনা হয়। এই আইনি হয়রানির বিরুদ্ধে এবং যুবকের শারীরিক ক্ষতির ন্যায়বিচার চেয়ে মানবাধিকার সংগঠন ‘আসক’ জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত বিভিন্ন তদন্ত প্রতিবেদন সংযুক্ত করে হাইকোর্টে জনস্বার্থে রিটটি দায়ের করে। শুনানিতে রিটকারীর পক্ষে অংশ নেন অ্যাডভোকেট মো. শাহিনুজ্জামান।
তহবিলের এই অন্তর্বর্তীকালীন অর্থ সাহায্য বর্তমানে ২৪ বছর বয়সী যুবকের জন্য অত্যন্ত জরুরি ছিল, যিনি বর্তমানে কেরানীগঞ্জে তার ভাইয়ের একটি ফ্রিজ মেরামতের দোকানে টেকনিশিয়ান হিসেবে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। দীর্ঘ সাত বছর ধরে পঙ্গুত্বের অভিশাপ নিয়ে বেঁচে থাকা এই যুবকের আইনি লড়াইয়ের ক্ষেত্রে আদালতের এই রুল একটি বড় মাইলফলক। আন্তর্জাতিক আইন এবং নাগরিক অধিকার সনদের পরিপন্থী এই পুলিশি অ্যাকশনের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতের এমন কড়া অবস্থান দেশের বিচার ব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে বলে আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।



