নিজস্ব প্রতিবেদক
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নিয়োগ হওয়া সব পুলিশ সদস্যের তথ্য জোগাড় করছে পুলিশ সদর দপ্তর। জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে এতে নিরপরাধ কোন পুলিশ সদস্যকে হয়রানি করা হবে না।
কিছুদিন আগে পুলিশের সব ইউনিটপ্রধান, রেঞ্জ ডিআইজি, জেলা পুলিশ সুপার ও থানার ওসিদের কাছে বিশেষ বার্তা পাঠানো হয়েছে। কোন পুলিশ সদস্যের সাথে ‘রাজনৈতিক যোগ’ আছে কি না, সেদিকে বেশি নজর দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া পুলিশের স্বজনরাও নজরদারির আওয়াতায় থাকবেন।
সেই বার্তায় বলা হয়েছে, কোন পুলিশ সদস্যের তথ্য গোপন করা হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে নিরপরাধ কাউকে হয়রানি করা হবে না। অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করতে পুলিশের প্রতিটি সদস্যকে সহযোগিতা করতে হবে।
পুলিশ সূত্র জানায়, আন্দোলনের সময় পুলিশের স্থাপনা থেকে লুট হওয়া আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারে তোড়জোড় শুরু হয়েছে। নির্বাচনের আগেই লুট হওয়া সব আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করতে যৌথ বাহিনী বিশেষ অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ভোটের দিন বডিওর্ন ক্যামেরা, যানবাহনের ব্যবস্থা, হ্যান্ডমাইক, অস্ত্র, যানবাহন, যোগাযোগের সরঞ্জাম এবং অন্যান্য নিরাপত্তা সরঞ্জাম কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি পদমর্যাদার এক কর্মকর্তা জানান, ‘আমরা চাচ্ছি নিরপেক্ষভাবে নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করতে। গত তিনটি নির্বাচনে যেসব কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করেছেন, তারা আগামী নির্বাচনে দায়িত্বের বাইরে থাকবেন।
এদিকে তথ্য সংগ্রহ নিয়ে পুলিশের অনেকের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। নাম প্রকাশ না করে ডিএমপিতে কর্মরত কয়েকজন কর্মকর্তা বলেন, ‘পুলিশে চাকরি করছি পেশাদারিত্ব নিয়ে। যখন শপথ নিয়ে চাকরিতে এসেছি তখন দলমত কিছুই বুঝব না। কিন্তু রাজনৈতিক সরকার দায়িত্ব নিয়ে আমাদের ব্যবহার করে ফায়দা নিচ্ছে।
ঢাকার বাইরে কর্মরত কয়েকজন পুলিশ সদস্য বলেন, ‘আমাদের তথ্য সংগ্রহ করুক সমস্যা নেই। স্বজনদের কেন করতে হবে? তারা তো পুলিশে চাকরি করছে না।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম বলেন, ‘আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সব প্রস্তুতি নিয়েছে পুলিশ। নির্বাচনে পুরোপুরি নিরপেক্ষ থাকবেন পুলিশ সদস্যরা। দ্রুত পুলিশের প্রশিক্ষণ শুরু হবে। নির্বাচনের আগে বড় ধরনের অভিযান শুরু হবে যাতে বিশৃঙ্খলা না হয়।’
সূত্র: দেশ রূপান্তর



