― Advertisement ―

ভারতের সঙ্গে চুক্তির প্রতিবাদে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনে ছাত্র জোটের বিক্ষোভ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে রেল কানেকটিভিটি বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা চুক্তির প্রতিবাদে পুলিশের বাধা অতিক্রম করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে...

নোভোএয়ারের ফ্লাইটে ল্যান্ডিং গিয়ারের ত্রুটি: আকাশে ৪৫ মিনিট চক্করের পর প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাসহ যাত্রীদের জরুরি অবতরণ

ঢাকা থেকে কক্সবাজারগামী বেসরকারি বিমান সংস্থা নোভোএয়ারের একটি যাত্রীবাহী ফ্লাইট উড্ডয়নের মাত্র ১৫ মিনিট পর তীব্র যান্ত্রিক ত্রুটির সম্মুখীন হয়ে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করেছে। উড্ডয়নের পর উড়োজাহাজের ল্যান্ডিং গিয়ার (চাকা) স্বাভাবিকভাবে ওপরে না উঠায় আকাশে প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ মিনিট চক্কর দিতে বাধ্য হন পাইলট। শুক্রবার (৩ জুলাই, ২০২৬) সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটে উড্ডয়ন করা এই ‘বিকিউ-৯৩৫’ ফ্লাইটের গুরুত্বপূর্ণ যাত্রী ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র ও বেসামরিক বিমান পরিবহন উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। ককপিটের দক্ষ পরিচালনায় শেষ পর্যন্ত বড় ধরনের বিপর্যয় এড়িয়ে বিমানটি নিরাপদে অবতরণ করতে সক্ষম হয়।

কক্সবাজারে একটি রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাওয়ার পথে এই অনাকাঙ্ক্ষিত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হওয়া প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির নিজেই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানান, উড্ডয়নের ১০ থেকে ১৫ মিনিটের মধ্যে ল্যান্ডিং গিয়ার লক হয়ে যাওয়ার যান্ত্রিক বিভ্রাটটি ধরা পড়ে। ক্যাপ্টেন বারবার চেষ্টা করেও চাকাগুলো প্রত্যাহার করতে ব্যর্থ হলে যাত্রীদের জীবনের সর্বোচ্চ নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে তাৎক্ষণিকভাবে ফ্লাইটটি ঢাকায় ফিরিয়ে আনার দূরদর্শী সিদ্ধান্ত নেন। গতি ও ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে অবতরণের পূর্বে বিমানটিকে বেশ কিছু সময় ঢাকার আকাশে অবস্থান করতে হয়েছিল।

আকাশে দীর্ঘক্ষণ চক্কর দেওয়ার এই অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে বিমানের অভ্যন্তরে সাধারণ যাত্রী ও শিশুদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। তবে আল্লাহর রহমতে কোনো ধরনের ক্ষয়ক্ষতি ছাড়াই বিমানটি রানওয়ে স্পর্শ করলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পান আরোহীরা। উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির ক্যাপ্টেনের এই তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, বিমান চলাচল বিষয়ে বিশেষজ্ঞ না হলেও ব্যক্তিগতভাবে তাঁর মনে হয়েছে যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে ঢাকায় ফিরে আসার সিদ্ধান্তটি সম্পূর্ণ সঠিক ও সময়োপযোগী ছিল।

এই চরম ঝুঁকিপূর্ণ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে দেশের বেসরকারি বিমান সংস্থাগুলোর পুরোনো উড়োজাহাজের ফিটনেস ও রক্ষণাবেক্ষণ প্রক্রিয়া আরও কঠোরভাবে পরীক্ষা করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন উপদেষ্টা। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, গণযাত্রীবাহী উড়োজাহাজের ক্ষেত্রে নিরাপত্তার সাথে বিন্দুমাত্র আপসের কোনো সুযোগ নেই। সিভিল এভিয়েশন কর্তৃক নিয়মিত, আধুনিক ও কার্যকর ফিটনেস পরীক্ষা নিশ্চিত করা না গেলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের বিমান দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে, যা সরাসরি যাত্রীদের জীবন ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পর্কিত।