নিজস্ব প্রতিবেদক
গণ-অভ্যুত্থানের পর নতুন সরকার দায়িত্ব নিয়ে বিদ্যমান সংকটগুলো থেকে উত্তরণের চেষ্টা করছে। অথচ দেশকে সামনে এগিয়ে নিতে বড় বাঁধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে দুর্ণীতি। কঠিন এ সময়েও দুর্ণীতিবাজদের দুর্ণীতি চলছেই। কেন দুর্ণীতিবাজদের লাগাম টানতে পারছেনা দুদক?
বিশ্লেষকরা বলছেন, দুর্নীতি মোকাবেলায় বাংলাদেশের এই নিদারুণ ব্যর্থতার পেছনে খোদ দুর্ণীতি দমন কমিশন নিজেই দায়ী। তারা তাদের নিজ কর্মীদের দুর্ণীতির লাগামই টানতে পারছেনা।
নিজেদের কর্মীরাই যখন দুর্ণীতিগ্রস্থ হয়ে যায়, তখন পুরো দেশের দুর্নীতিরোধ করা আর হয়ে ওঠেনা। দুদকের যেসব কর্মীর বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়া এবং সন্দেহভাজন দুর্নীতিবাজদের কাছ থেকে অণৈতিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ আছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে বলে মত বিশ্লেষকদের।
দুর্নীতির ধারণা সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান বরাবরই হতাশাজনক। আন্তর্জাতিক সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল কর্তৃক দুর্নীতির ধারণা সূচকে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশে পেছনে আছে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি, শাসনকাঠামো, আমলাতন্ত্র ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থা থেকে দুর্নীতিকে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই। বাংলাদেশের সমাজে দুর্নীতির বিস্তার আরো ব্যাপক ও সর্বব্যাপী।
‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স’ দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশে বহুল উচ্চারিত স্লোগান। বাস্তবে দেশে দুর্নীতি বাড়ছে, কমছে না। চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান বাংলাদেশের সামনে ঘুরে দাঁড়ানোর একটি বড় সুযোগ এনে দিয়েছে।
তবে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয় রাজনীতির প্রভাব থেকে বের করে আনা, সেগুলোকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেওয়া না হলে দুর্ণীতির লাগাম টাকা সহয় নয়। দুদক অনেক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের উৎসবহির্ভূত আয় নিয়ে তদন্ত শুরু করলেও পরবর্তীতে রাজনৈতিক প্রভাব ও দুদকের কিছু অসাধু কর্মীর কারণে তার আর কোনো অগ্রগতি দেখা যায়না।
জানা যায়, গত প্রায় ১৮ বছরে ঘুষ-অনৈতিক সুবিধা নেওয়া, দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়াসহ বিভিন্ন অভিযোগে নিজেদের ২৪৪ জন কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে শাস্তি দিয়েছে দুদক।
নিজেদের কর্মকর্তাদের দুর্নীতির বিরুদ্ধে দুদকের নেওয়া পদক্ষেপকে স্বাগত জানালেও ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, শুধু বিভাগীয় পদক্ষেপ নেওয়াই যথেষ্ট নয়, তাদেরকে বিচারের জন্য আদালতে সোপর্দ করতে হবে।



