নিজস্ব প্রতিবেদক: আসামিদের গ্রেফতারের আশ্বাসে ধর্মঘট প্রত্যাহার করে নিয়েছে বাংলাদেশ কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিষ্ট সমিতি বরিশাল জেলা।
ফলে রাত সোয়া ৮টার দিকে ব্যবসায়ীরা ওষুধের দোকান খুলে দিলে সড়ক থেকে সরে আসে অবরোধকারী রোগীর স্বজনরা।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমিতির বরিশাল জেলার জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি আব্দুস সালাম। তিনি বলেন, ধর্মঘট শুরু করার পর বরিশাল মহানগর পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম তার কার্যালয়ে তাদের ডেকে নেয়। সেখানে পুলিশ কমিশনার জানিয়েছে, মামলার দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নামধারী বাকি দুইজনকেও রাতের মধ্যে গ্রেপ্তারের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। এর প্রেক্ষিতে রাত আটটার দিকে ধর্মঘট স্থগিত রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। রাতের মধ্যে গ্রেপ্তার করা না হলে পরবর্তিতে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেন তিনি।
এর আগে বরিশাল নগরীর সদর রোডে সমিতির কার্যালয়ের জমি দাবি করে রোববার ভোরে পাশের আইএকে পর্যটন হোটেলের মালিক লোকজন নিয়ে ভবন ভাঙচুর করে।
কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমিতির কম্পিউটার অপারেটর দেবাশিষ হালদার জানান, তাদের ভবনের পাশের আবাসিক হোটেল আইএকে পর্যটন হোটেলের মালিক ইকবাল আজম জমির মালিকানা দাবি করে ২১টি মামলা করেছে। কিন্তু জমি বৈধভাবে ক্রয় করার দলিল কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমিতির রয়েছে। তবুও তার লোকজন ভোরে জমি দখলের জন্য ভবন ভাঙচুর করেছে। এ সময় কার্যালয় ভবনে থাকা নগদ অর্থ লুট করেছে। এতে সমিতির দুই কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় আব্দুস সালাম বাদী হয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করেছে। মামলায় নামধারী চার ও অজ্ঞাত ২০ জনকে আসামি করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে ফার্মেসি অনির্দিষ্টকালের জন্য ফার্মেসি বন্ধের ঘোষণা দেওয়া হয়। বিকেল পাঁচটার পর নগরীর পাঁচ শতাধিক ফার্মেসি বন্ধ হয়ে যায়।
ফার্মেসি বন্ধের পর বরিশাল শেরই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীর স্বজনরা বিপাকে পড়ে। প্রয়োজনীয় ওষুধ কিনতে এসে না পেয়ে রোগীরা স্বজনরা হাসপাতালের সামনে গুরুত্বপূর্ণ বান্দ রোড অবরোধ করে। ধর্মঘট স্থগিত হওয়ার পর ফার্মেসি খুলে দেওয়া হলে তারাও সড়ক ছেড়ে দিয়েছেন।
কোতয়ালি মডেল থানার ওসি মো. মিজানুর রহমান বলেন, আসামি গ্রেপ্তারের আশ্বাসে ওষুধ মালিকরা ধর্মঘট প্রত্যাহার করেছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।



