বরগুনা প্রতিনিধি: বরগুনার আমতলীতে প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকার সড়ক নির্মাণ কাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। এ ছাড়া মেকাডামেও নিম্নমানের খোয়া ব্যবহার করা হয়েছে।
বিষয়টি জেনেও অদৃশ্য কারণে সংশ্লিষ্ট ঠিকদোরের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছেনা উপজেলা প্রকৌশলী বিভাগ। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে স্থানীয়রা।
উপজেলা এলজিইডি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালে উপজেলার সদর ইউনিয়নের খুড়িয়ার খেয়াঘাট থেকে ধানখালী জিসি সড়কের ৪ হাজার ৩০০মিটার কাজের দরপত্র আহবান করা হয়।
পরে তিন কোটি চার লাখ ৯৫ হাজার ৫৯৪ টাকায় দরপত্রের মাধ্যমে বরেন্দ্র নামের এক ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কাজটি পায়। গত বছরের ২১এপ্রিল কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তা পারেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
কাজ ফেলে রাখার পর গত ডিসেম্বর মাসে ওই কাজ আবার শুরু করে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান দরপত্র অনুসারে সড়কের প্রস্থ ও গভীরতা দেয়নি।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, রাস্তায় মেকাডামেও নিম্নমানের খোয়া ব্যবহার করা হয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রাস্তাটি নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করায় স্থানীয় লোকজন একাধিকবার প্রতিবাদ করলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তার তোয়াক্কা না করেই কাজ চলমান রাখে।
স্থানীয় বাচ্চু মিয়া ও কামাল হোসেন বলেন, ঠিকাদারের লোকজন ভালো মানের খোয়া না দিয়ে পোড়ামাটির মতো খোয়া ব্যবহার করে রাস্তা বানাচ্ছে।এলাকার লোকজন প্রতিবাদ করলেও তারা মানছে না।
মোটর সাইকেল চালক নজরুল ইসলাম বলেন, ঠিকাদার যে নির্মাণ সামগ্রী দিয়ে সড়কের কাজ করেছেন তাতে সরকারী টাকা অপচয় ছাড়া আর কিছুই না।
অভিযুক্ত ঠিকাদার শাহীন তালুকদার অস্বীকার করে বলেন, ইতিমধ্যে দুই হাজার এক’শ মিটার সড়কের কাজ শেষ করেছি। বাকী কাজ দ্রুত শুরু করবো। তিনি বলেন, উপজেলা প্রকৌশলী কাজের বিল ছাড় দিলেও এখনো উত্তোলন করতে পারেনি।
আমতলী উপজেলা প্রকৌশলী মো. ইদ্রিস আলী বলেন, ঠিকাদার যতটুকু কাজ করেছেন তার বিল ছাড় দেয়া হয়েছে।
বরগুনা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মেহেদী হাসান খাঁন বলেন, কাজ করলে ঠিকাদারকে বিল ছাড় দিতেই হবে। তবে ঠিকাদার ওই সড়কের কিছু স্থানে নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করেছিল তা পরিবর্তন করা হয়েছে।



