― Advertisement ―

পারভীন হত্যা: খুনি রসু খাঁর মৃত্যুদণ্ড বহাল হাই কোর্টে

চাঁদপুরের পারভীন হত্যা মামলায় আলোচিত খুনি রসু খাঁর মৃতুদণ্ড বহাল রেখেছে হাই কোর্ট।মঙ্গলবার বিচারপতি সৈয়দ মো. জিয়াউল করিম ও বিচারপতি কে এম ইমরুল কায়েশের...

দেশের ‘প্রথম ফ্যাসিস্ট বাহিনী মুক্ত’ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট স্বীকৃতি

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়কে আনুষ্ঠানিকভাবে দেশের ‘প্রথম ফ্যাসিস্ট বাহিনী মুক্ত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। শনিবার (২৯ আগস্ট) অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯৫তম সিন্ডিকেট সভায় এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত ও পাস করা হয়। এর মাধ্যমে ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে বিশ্ববিদ্যালয়টির সাধারণ শিক্ষার্থীদের বীরত্বপূর্ণ আত্মত্যাগ ও অদম্য প্রতিরোধ প্রাতিষ্ঠানিক আনুষ্ঠানিকতা লাভ করল।

সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মামুন অর রশীদ জানান, ১৮ জুলাইয়ের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে সিন্ডিকেটে সর্বসম্মত প্রস্তাব পাস হয়েছে। এটি এখন চ্যান্সেলরের (রাষ্ট্রপতি) অনুমোদনের জন্য বঙ্গভবনে পাঠানো হবে। একই সঙ্গে ইউজিসিতেও এ সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক নথি পাঠানো হচ্ছে বলে সিন্ডিকেট সদস্য ও বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ নিশ্চিত করেছেন।

২০২৪ সালের জুলাইয়ে বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে ছাত্রসমাজ ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’-এর সূচনা করে। আন্দোলনের একপর্যায়ে ১৮ জুলাই তৎকালীন স্বৈরাচারী সরকারের নির্দেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং তাদের দলীয় ক্যাডাররা বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও সংলগ্ন মহাসড়কে বর্বর হামলা চালায়। কাঁদানে গ্যাস, টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেডের মুখেও ববির শিক্ষার্থীরা বুক চিতিয়ে সাহসিকতার সাথে রাজপথে দাঁড়িয়ে থাকেন।

শিক্ষার্থীদের তীব্র প্রতিরোধ ও অটল সাহসিকতার মুখে সেদিন বিকেলেই পিছু হটতে বাধ্য হয় সশস্ত্র বাহিনী। আন্দোলনকারীদের কাছে ক্ষমা চেয়ে তৎকালীন ক্ষমতাসীন সরকারের ক্যাডার ও পেটুয়া বাহিনী ক্যাম্পাস ত্যাগ করে। ফলে ১৮ জুলাই বিকেলেই জুলাই আন্দোলনের ইতিহাসজুড়ে দেশের প্রথম ফ্যাসিস্ট বাহিনী মুক্ত ক্যাম্পাসের মর্যাদা পায় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়।

এই সাহসী প্রতিরোধই পরবর্তীকালে সমগ্র বরিশাল অঞ্চলে স্বৈরাচার পতনের আন্দোলনকে এক চূড়ান্ত রূপ দিয়েছিল। শিক্ষার্থীদের রক্তঝরা এই অর্জনকে প্রাতিষ্ঠানিক দলিলের অন্তর্ভুক্ত করতেই বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট সর্বসম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্তের অনুমোদন দিয়েছে।

সিন্ডিকেটের এই সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন এবং ছাত্র আন্দোলনের বিজয়ের ইতিহাস জাতীয় সনদে অন্তর্ভুক্তির পথে এক ধাপ এগিয়ে গেল। চ্যান্সেলরের সম্মতি মিললেই এটি পূর্ণাঙ্গ রূপ পাবে।