দেশের মোট জনগোষ্ঠীর প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মানুষ অসুস্থতা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও অন্য যে কোনো অপ্রত্যাশিত বিপর্যয়ের মুখে পড়ে দারিদ্র্য সীমার নিচে নেমে যাওয়ার ঝুঁকির মুখে রয়েছেন বলে এক প্রতিবেদনে উল্ল্যেখ করেছে বিশ্বব্যাংক।
বাংলাদেশের দারিদ্র্যতা ও বৈষম্য মূল্যায়ন শীর্ষক প্রতিবেদন ২০২৫ এ এমন তথ্য জানায় বিশ্বব্যাংক। গত ২৫ নভেম্বরে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঝুঁকি ক্রমেই বাড়ছে। এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে নানা উদ্যোগের কথা বলা হলেও এর সুফল মিলছে না। চাকরির বাজার মন্দা হওয়ায় দারিদ্র্যের হার বাড়ছে। ২৫ নভেম্বর প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রবৃদ্ধির সুফল মূলত ধনী মানুষেরা পাচ্ছেন, ফলে আয় বৈষম্য আরো বেড়ে গেছে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) দেশের শ্রমশক্তির যে জরিপ করেছে, তাতে বলা হয়েছে, দেশে প্রায় এক কোটি মানুষ তাদের যোগ্যতা ও সম্ভাব্য কাজের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কাজ পাচ্ছেন না। অর্থাৎ এই মানুষগুলো বেকার।
বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রতি বছর ২০ লাখের বেশি মানুষ শ্রমবাজারে আসছেন। কিন্তু কর্মসংস্থান নেই। একের পর এক বন্ধ হচ্ছে শিল্পপ্রতিষ্ঠান। একদিকে বিনিয়োগের জন্য চাহিদামাফিক টাকা নেই ব্যাংকে, অন্যদিকে ঋণের সুদের হারও ঊর্ধ্বমুখী। সব মিলিয়ে দারিদ্রতার ঝুঁকি বাড়ছে।
প্রতিবেদন বিশ্লেষন করে অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এ অবস্থার উন্নয়নে জরুরী ভিত্তিতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, ‘বাংলাদেশে বর্তমানে যে হারে ঋণের সুদ নেওয়া হচ্ছে, তা এশিয়ায় সর্বোচ্চ। এভাবে সুদের হার থাকলে ব্যবসায়ীরা বিনিয়োগে আগ্রহী হওয়ার কথা নয়। সুদের হার কমাতে হবে।’
আবু আহমেদ আরো বলেন, ‘দেশে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা রয়েছে। এটি বিনিয়োগ না হওয়ার অন্যতম বড় কারণ। ভালো নির্বাচন হলে আশা করছি পরিস্থিতির পরিবর্তন হবে। তখন নতুন বিনিয়োগ আসবে।’
তবে আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘এর আগে বিদেশ থেকে যে পরিমাণ ঋণ নেওয়া হয়েছিল, ইতোমধ্যে তার সুদ পরিশোধ শুরু হয়েছে। বর্তমানে ঋণ ১ লাখ ১৫ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। ভবিষ্যতে এই ঋণ অর্থনীতিতে সমস্যা তৈরি করতে পারে। আর অর্থনীতিতে সমস্যা হলে অন্যান্য সূচকেও এর প্রভাব পড়বে।
উৎপাদনশীল খাতে কর্মসংস্থানের ভিত্তি মজবুত করা, দরিদ্র এবং ঝুঁকিতে থাকা মানুষের জন্য কাজের ব্যবস্থা করা, আধুনিক প্রক্রিয়াজাত শিল্পে বিনিয়োগ এবং ব্যবসা সহায়ক বিধিবিধান তৈরি করে দরিদ্র-বান্ধব বাজার ব্যবস্থা গড়ে তোলা। শক্তিশালী রাজস্ব নীতি এবং কার্যকর সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির মাধ্যমে এই ঝুঁকি মোকাবিলার সক্ষমতাকে শক্তিশালী করা সহ মোট ৪টি প্রধান নীতিগত করণীয় চিহ্নিত করা হয়েছে প্রতিবেদনে।



