― Advertisement ―

দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারকে লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন কর্তৃক ‘আলোচনাতীত’ শর্ত হিসেবে ঘোষণা

দক্ষিণ লেবাননের সার্বভৌম ভূখণ্ড থেকে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর সম্পূর্ণ ও নিঃশর্ত প্রত্যাহার লেবানন রাষ্ট্রের জন্য একটি সম্পূর্ণ ‘আলোচনাতীত’ (নন-নেগোশিয়েবল) মৌলিক দাবি বলে স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন। আজ সোমবার (২৫ মে, ২০২৬) বৈরুতে দেওয়া এক বিশেষ রাষ্ট্রীয় বিবৃতিতে তিনি এই অনমনীয় অবস্থানের কথা জানান। প্রেসিডেন্ট আউন জোর দিয়ে বলেন, দক্ষিণ লেবানন থেকে দখলদারিত্বের অবসান ঘটিয়ে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ ও সার্বভৌমত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্য অর্জনে লেবানন সরকার আন্তর্জাতিক আইন, কূটনৈতিক সংলাপ এবং জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ফ্রেমওয়ার্ক অনুযায়ী আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতার পথেই হাঁটবে।

২০০০ সালে দক্ষিণ লেবাননের দীর্ঘস্থায়ী ইসরায়েলি দখলদারিত্বের অবসান ও সেনা প্রত্যাহারের ঐতিহাসিক ‘মুক্তি ও প্রতিরোধ দিবস’ (Liberation and Resistance Day)-এর ২৬তম বার্ষিকী উপলক্ষে দেশবাসীর উদ্দেশ্যে এই গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেন জোসেফ আউন। বর্তমান ভূরাজনৈতিক সংকটের কথা উল্লেখ করে প্রেসিডেন্ট বলেন, “এবারের মুক্তি দিবসটি এমন এক ঐতিহাসিক ও বেদনাদায়ক বাস্তবতার মধ্য দিয়ে আমাদের সামনে এসেছে, যখন লেবাননের দক্ষিণ সীমান্ত পুনরায় বিদেশি আগ্রাসন ও চরম সার্বভৌমত্ব সংকটের মুখোমুখি।” তাঁর এই জাতীয়তাবাদী বার্তা মূলত লেবানিজ সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ এবং লেবানন সেনাবাহিনীর মধ্যে দেশের অভ্যন্তরীণ নীতিগত ভারসাম্য রক্ষায় গভীর তাৎপর্য বহন করে।

প্রেসিডেন্ট আউনের এই কঠোর ও কৌশলগত মন্তব্যটি এমন এক সময়ে সামনে এলো, যার ঠিক পরপরই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে মধ্যপ্রাচ্য সংকট নিরসনে নতুন দফার উচ্চপর্যায়ের যুদ্ধবিরতি ও দ্বিপাক্ষিক নিরাপত্তা আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। হোয়াইট হাউসের বিশেষ দূত ও আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারীদের উপস্থিতিতে চলমান এই কূটনৈতিক আলোচনার মূল এজেন্ডা হলো—ব্লু-লাইন (Blue Line) সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধবিরতি চুক্তি সম্পাদন এবং দক্ষিণ লেবাননে লেবানিজ সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলি ডিফেন্স ফোর্সের (IDF) মধ্যকার চলমান সামরিক সংঘাতের টেকসই রাজনৈতিক সমাধান সূত্র খোঁজা।

কূটনৈতিক এই দৌড়ঝাঁপের সমান্তরালে দক্ষিণ লেবানন সীমান্তে ইসরায়েলি বিমান ও স্থল বাহিনীর বিধ্বংসী সামরিক সংঘাত ও বোমাবর্ষণ অব্যাহত রয়েছে। লেবানিজ গণমাধ্যমের তথ্যানুযায়ী, সাম্প্রতিক ইসরায়েলি বিমান হামলায় বেশ কয়েকজন বেসামরিক নাগরিক ও প্রতিরোধ যোদ্ধা নিহত হয়েছেন এবং ইসরায়েলি সামরিক কমান্ড দক্ষিণ লেবাননের বেশ কিছু নতুন সীমান্ত অঞ্চল খালি করার (Evacuation Order) জন্য কঠোর আলটিমেটাম জারি করেছে। একদিকে হিজবুল্লাহর রকেট হামলা এবং অন্যদিকে ইসরায়েলের পাল্টা বিমান হামলায় সমগ্র মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে এখন একটি পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক যুদ্ধের (Regional War) আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা বিশ্ব সম্প্রদায়ের মাঝে তীব্র উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।