চট্টগ্রামসহ সারা দেশের মানুষকে যারা উৎকণ্ঠায় রাখে ডেভিড ইমন তাদেরই একজন। খেলার মাঠ থেকে সরাসরি নাম লেখায় রক্তের হোলি খেলায়। বদলায় সময়, বাড়ে রাজত্বের পরিধি। বড় সাজ্জাদের ছত্রছায়ায় হয়ে উঠে আরও অপ্রতিরোধ্য।
জেলা পুলিশের অভিযানে যশোর থেকে গ্রেপ্তার করা হয় ডেভিড ইমনকে।এসপি মাসুদ আলম বলেন, গ্রেপ্তার এড়াতে পরিবর্তন এনেছিল পোশাক, চুলের কাটিং আর চেহারায়ও। কিন্তু শেষ রক্ষা হলোনা আর।
নগরীর শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ হোসেন গ্যাংয়ের মূল নেতৃত্বে রয়েছে বড় সাজ্জাদ। তার প্রধান সহযোগী হিসেবে কাজ করতো এই ডেভিড ইমন। এই গ্যাংটির শুটার
আরেক সদস্য রায়হান দীর্ঘদিন ধরেই রয়েছে
পুলিশের নজরদারিতে।
নগরীর এাস শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেবিট ইমনকে গ্রেফতার পরবর্তী বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সকালে জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান, চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাসুদ আলম।
এসময় পুলিশ সুপার বলেন, বাংলাদেশে পুরো গ্যাংয়ের লিডার বলা যায় এই ডেভিড ইমনকে। গ্রুপের প্রধান বড় সাজ্জাদ রয়েছে
দেশের বাইরে দুবাইয়ের মাটিতে।
গ্রুপে ডেভিড ইমনের পরে রায়হান এখনও পুলিশের কড়া নজরদারিতে আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পুলিশের কাছে কে কার প্রতিপক্ষ বা কোন গ্রুপের সদস্য সেটি বিবেচ্য নয়। আমাদের কাছে একটা বিষয়ই গুরুত্বপূর্ণ, সে অপরাধী কি না। সে সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ বা অপরাধে জড়িত হলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সংবাদ সম্মেলনে ডেভিড ইমনের বিরুদ্ধে থাকা মামলার তথ্য তুলে ধরে এসপি মাসুদ আলম বলেন, পুলিশের সিডিএমএস তথ্য অনুযায়ী ইমনের বিরুদ্ধে বর্তমানে ১৩টি মামলা তদন্ত এবং বিচারাধীন
রয়েছে। এর মধ্যে সাতটি হত্যা মামলা এবং বাকি ৬টি মামলার মধ্যে রয়েছে
চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। তিনি আরও বলেন, গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে ফটিকছড়ি থানায় আরও একটি মামলা করা হয়েছে। এই মামলায় ডেবিট ইমনসহ তার চার সহযোগীকে গ্রেপ্তার দেখানো হবে। এছাড়া ফটিকছড়ি থানার পুরাতন
মামলায় রিমান্ড আবেদন করা হবে।
যশোর থেকে ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে এসপি বলেন, পুলিশের কাছে আগে থেকেই কিছু গোয়েন্দা তথ্য ও অন্যান্য আলামত ছিল। সেগুলোর ভিত্তিতেই তাকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। গ্রেপ্তার এড়াতে তিনি নিজের চেহারা পরিবর্তন করেছিলেন। এমনকি সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে পালানোর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে চুল-দাড়ির স্টাইলও পরিবর্তন করেন। এটি কোনো আকস্মিক অভিযান নয়। দীর্ঘদিনের ধারাবাহিক গোয়েন্দা নজরদারি, তথ্য সংগ্রহ এবং নিরলস পরিশ্রমের ফলেই এই সফল অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব হয়েছে।
এসময় রাউজানের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের এক প্রশ্নের জবাবে এসপি মাসুদ আলম বলেন, চট্টগ্রামে যোগদানের পর দুটি বিষয় সবচেয়ে বেশি চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে, জঙ্গল সলিমপুর এবং রাউজান। শুরু থেকেই রাউজানকে ঘিরে একটি বিশেষ পরিকল্পনা নিয়ে পুলিশ কাজ করছে এবং ভবিষ্যতেও সেই অভিযান অব্যাহত থাকবে।



