― Advertisement ―

পারভীন হত্যা: খুনি রসু খাঁর মৃত্যুদণ্ড বহাল হাই কোর্টে

চাঁদপুরের পারভীন হত্যা মামলায় আলোচিত খুনি রসু খাঁর মৃতুদণ্ড বহাল রেখেছে হাই কোর্ট।মঙ্গলবার বিচারপতি সৈয়দ মো. জিয়াউল করিম ও বিচারপতি কে এম ইমরুল কায়েশের...

সাগরে নেই ইলিশ, হাটে নেই স্বস্তি: দিশেহারা পিরোজপুরের ক্রেতা-জেলেরা

দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় জেলা পিরোজপুরের নদ-নদী ও স্থানীয় বাজারগুলোতে ইলিশের ভরা মৌসুমেও দেখা দিয়েছে চরম আকাল। সরকারি ৫৮ দিনের সাগরে মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা শেষ হলেও কাঙ্ক্ষিত ইলিশ ও সামুদ্রিক মাছের দেখা পাচ্ছেন না জেলেরা। অন্যদিকে, জলাশয়ের নাব্যতা হ্রাস, প্রাকৃতিক প্রজনন কেন্দ্র ধ্বংস এবং অনিয়ন্ত্রিত নিষিদ্ধ জালের ব্যবহারের ফলে জেলাটিতে অন্তত ৫০ প্রজাতির দেশীয় মাছ এখন বিলুপ্তির মুখে পড়েছে। এর সরাসরি প্রভাবে বাজারে সরবরাহ কমে আকাশচুম্বী হয়েছে সব ধরনের মাছের দাম।

পিরোজপুরের খুচরা বাজারগুলোতে ছোট আকারের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ১ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার টাকায়, আর মাঝারি ও বড় ইলিশ কিনতে কেজিপ্রতি গুণতে হচ্ছে ২ হাজার ২০০ থেকে ৩ হাজার টাকা। কেবল ইলিশ নয়, অন্যান্য সামুদ্রিক মাছ যেমন রূপচাঁদা ও তপস্বীর দামও ছাড়িয়েছে হাজার টাকার ঘর। সাধারণ ও স্বল্প আয়ের ক্রেতাদের কাছে এখন রুই, পাঙাশ বা তেলাপিয়ার মতো চাষের মাছই একমাত্র ভরসা হলেও সেগুলোর দামও এখন উর্ধ্বমুখী।

মৎস্যজীবী ও ব্যবসায়ীদের মতে, সাগরে অবৈধ ট্রলিং জাহাজের তণ্ডব এবং নদী-নালায় নিষিদ্ধ ‘চাইনা দুয়ারি’ জালের অবাধ ব্যবহারের ফলে মাছের রেণু ও পোনা নিধন হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, অতীতে জেলার খাল-বিলে দেশি মাছের প্রাচুর্য থাকলেও এখন তা কেবল স্মৃতি। বর্তমানে বাজারে থাকা অল্প পরিমাণ টাকি, পুঁটি, টেংরা বা বোয়াল সাধারণ ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে।

তবে জেলা মৎস্য বিভাগের মতে, নদীতে ডুবোচর সৃষ্টির কারণে সমুদ্র থেকে প্রজননকামী ইলিশ নদীতে প্রবেশে বাধা পাচ্ছে। এছাড়া পিরোজপুরে ধরা পড়া মাছের বড় একটি অংশ অন্য জেলায় চালান হওয়ায় স্থানীয় বাজারে দাম বেশি। প্রশাসন থেকে অবৈধ জাল নির্মূলে নিয়মিত অভিযান চালানোর কথা বলা হলেও সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন—নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনা ও সাগরে ট্রলিং নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে জেলার সামগ্রিক মৎস্যসম্পদ মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়বে।