রাজধানীর দীর্ঘস্থায়ী যানজট নিরসন এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাকে ডিজিটাল কাঠামোর আওতায় আনতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) প্রযুক্তির স্থাপন কার্যক্রম দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (১৫ জুন, ২০২৬) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জনপ্রশাসন কক্ষে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে তিনি এই নির্দেশনা দেন। এটি ছিল রাজধানীতে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়ন নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর তৃতীয় পর্যালোচনা সভা। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, প্রধানমন্ত্রী প্রকল্পটির বর্তমান অগ্রগতি এবং এআই ক্যামেরা স্থাপনের সুনির্দিষ্ট সময়সীমা সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে কঠোর নির্দেশনা দিয়ে বলা হয়, যানজট কমানোর পাশাপাশি রাজধানীর রাস্তা থেকে পুরনো ও মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহন দ্রুত সরিয়ে ফেলতে হবে। ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়নে এআই ক্যামেরা বসানোর কাজ যেন কোনোভাবেই বিলম্বিত না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের সচিবদের সতর্ক করা হয়েছে। গত ৭ মে থেকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) পরীক্ষামূলকভাবে নগরীর বিভিন্ন ট্রাফিক পয়েন্টে এআই প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু করেছে, যা এখন পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের পথে রয়েছে।
প্রকল্পের আওতায় সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ লঙ্ঘন শনাক্ত করার জন্য বিশেষ সফটওয়্যার সমৃদ্ধ এআই ক্যামেরা ব্যবহার করা হচ্ছে। ডিএমপি সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীর ৩০টি গুরুত্বপূর্ণ ইন্টারসেকশন বা মোড়ে ইতোমধ্যে পিটিজেড (PTZ) ক্যামেরা বসানো হয়েছে। এই প্রযুক্তি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ট্রাফিক আইন অমান্যকারী যানবাহনকে শনাক্ত করছে এবং আইন অনুযায়ী গাড়ির মালিকের কাছে ডিজিটাল মামলা বা জরিমানা পৌঁছে দিচ্ছে। এই ব্যবস্থার ফলে ট্রাফিক পুলিশের ওপর চাপ কমার পাশাপাশি সড়কে শৃঙ্খলা ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সচিবালয়ের এই বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, দুই সিটি করপোরেশনের প্রশাসকসহ সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এআই প্রযুক্তির এই বিস্তৃত প্রয়োগ রাজধানীর পরিবহন খাতে একটি বড় মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর এই সরাসরি তদারকি ও দ্রুত কাজ শেষ করার নির্দেশনা বাস্তবায়ন হলে ঢাকা শহরের যানজট পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।



