গাজীপুরের শিল্পনগরী টঙ্গীতে ছিনতাইকারী সন্দেহে গণপিটুনির শিকার হয়ে এক অজ্ঞাতপরিচয় (আনুমানিক ২২ বছর) যুবকের নির্মম মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (২৪ জুন, ২০২৬) সকাল আনুমানিক ৭টার দিকে টঙ্গী পূর্ব থানাধীন অতি ব্যস্ত স্টেশন রোড এলাকায় এই বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ প্রশাসনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সকালে টঙ্গী ফ্লাইওভারের (উড়ালসড়ক) নিচের সিঁড়ির কাছে ওই যুবককে ছিনতাইয়ের চেষ্টাকালে উশৃঙ্খল জনতা হাতেনাতে ধরে ফেলে এবং কোনো আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই তাকে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
আইন প্রয়োগকারী সংস্থার প্রাথমিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, টঙ্গীর ওই ব্যস্ততম বাস টার্মিনাল ও ফ্লাইওভারের সংযোগস্থলে সকালের শিফটের পোশাকশ্রমিক ও সাধারণ পথচারীদের উপচে পড়া ভিড় ছিল। ঠিক সেই মুহূর্তে ওই যুবককে ছিনতাইকারী বলে চিৎকার করা হলে এক দল মানুষ আইন নিজের হাতে তুলে নেয়। খবর পেয়ে টঙ্গী পূর্ব থানা-পুলিশের একটি বিশেষ টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং রক্তাক্ত ও নিথর অবস্থায় পড়ে থাকা ওই যুবকের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের (Autopsy) জন্য স্থানীয় শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
হত্যাকাণ্ডের তীব্রতা ও আইনি প্রক্রিয়ার বিষয়ে টঙ্গী পূর্ব থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জিল্লুর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, “নিহত যুবকের প্রকৃত নাম-পরিচয় ও স্থায়ী ঠিকানা শনাক্ত করার জন্য পুলিশের ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও ক্রাইম সিন ডেটাবেজ ব্যবহার করা হচ্ছে। একই সঙ্গে, ওই এলাকায় সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ বিশ্লেষণ করে এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের জবানবন্দি রেকর্ড করে এই গণপিটুনি বা মব জাস্টিসের (Mob Justice) সাথে সরাসরি জড়িতদের আইনি প্রক্রিয়ায় শনাক্ত করার কাজ চলছে।” তিনি স্পষ্ট করেন যে, অপরাধী যেই হোক না কেন, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
এই নির্মম পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় টঙ্গী পূর্ব থানায় ফৌজদারি কার্যবিধি ও দণ্ডবিধি অনুযায়ী একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (GMP) এই ঘটনার পেছনের মূল কারণ উদঘাটন এবং পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান শুরু করেছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, গণপিটুনির নামে এই ধরনের মব কিলিং সামাজিক ও আইনি ব্যবস্থার জন্য এক মারাত্মক হুমকি।



