চব্বিশের ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদনের লক্ষে আয়োজিত ‘জুলাই জাতীয় সম্মেলন’-এর বিশেষ স্মরণসভায় যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (৪ জুলাই, ২০২৬) সকাল ১০টায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে (বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র) এই আবেগঘন স্মরণসভার আনুষ্ঠানিক সূচনা ঘটে। দেশের জন্য জীবন উৎসর্গকারী তরুণ ও সাধারণ মানুষের স্মৃতি রক্ষার্থে এবং গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করতে এই জাতীয় সমাবেশের আয়োজন করা হয়। সরকারপ্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি এই স্মরণসভায় এক ভিন্ন রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় তাৎপর্য যোগ করেছে।
ইতিহাসের পাতায় অমর হয়ে থাকা ‘৩৬ জুলাই’-এর দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর বিশেষ অংশ হিসেবে এই গৌরবোজ্জ্বল স্মরণসভার আয়োজন করা হয়েছে। জাতীয় স্তরের এই অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে পরিচালনা ও সফল করে তুলেছে ‘জুলাই ২৪ শহীদ পরিবার সোসাইটি’ এবং ‘আমরা জুলাই যোদ্ধা’ নামক দুটি নাগরিক প্ল্যাটফর্ম। গণঅভ্যুত্থানে যারা নিজেদের সন্তান ও স্বজন হারিয়েছেন, সেইসব পরিবারের সদস্যরা এবং রাজপথের ফ্রন্টলাইন যোদ্ধারা এই সম্মেলনে অংশ নিয়ে তাঁদের স্মৃতিচারণ করেন। সরকারপ্রধান তাঁর বক্তব্যে শহীদ পরিবারগুলোর পাশে থাকার এবং অভুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
এদিকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তিকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে ব্যাপক ভিত্তিক ৯ দিনব্যাপী বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এই দীর্ঘ কর্মসূচির চূড়ান্ত বা শেষ দিনে আগামী ৩ আগস্ট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে একটি বিশাল ছাত্র সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়েছে। সমাপনী দিনের সেই ঐতিহাসিক ছাত্র সমাবেশেও প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ছাত্র-জনতার উদ্দেশ্যে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখবেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। ৯ দিনের এই ধারাবাহিক রাষ্ট্রীয় ও দলীয় কর্মসূচি ঘোষণার পর থেকেই দেশজুড়ে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক প্রস্তুতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
গত বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর এই দীর্ঘ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক রূপরেখা ও সূচি ঘোষণা করে বিএনপির অন্যতম প্রধান ছাত্রসংগঠন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, আগামী ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) মিলনায়তনে এক বিশেষ সেমিনার ও আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে এই বছরব্যাপী কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা ঘটবে এবং তা ক্রমান্বয়ে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ৩ আগস্ট শহীদ মিনারে গিয়ে শেষ হবে। চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের এই উদ্বোধনী স্মরণসভায় প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন নীতিনির্ধারকেরা উপস্থিত ছিলেন।



