বিশ্বকাপ ফুটবলের শেষ ৩২-এর হাইভোল্টেজ নকআউট ম্যাচে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে জার্মানির গোল বাতিলের বিতর্কিত সিদ্ধান্তটি সম্পূর্ণ সঠিক ও নিয়মসম্মত ছিল বলে স্পষ্ট জানিয়েছে ফুটবলের আন্তর্জাতিক অভিভাবক সংস্থা ফিফা। ম্যাচটিতে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (VAR) প্রযুক্তির মাধ্যমে জার্মানির জয়সূচক গোলটি বাতিলের পর বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমী ও বিশ্লেষকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়। এই তুমুল সমালোচনার মুখে সুইজারল্যান্ডের জুরিখে অবস্থিত ফিফার সদরদপ্তর থেকে সংস্থাটির রেফারিপ্রধান পিয়েরলুইজি কলিনা এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে মাঠের রেফারির সিদ্ধান্তকে শতভাগ সমর্থন করে ফিফার শক্ত অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
বাংলাদেশ সময় গত সোমবার রাতে অনুষ্ঠিত তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচটিতে নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলা ১-১ সমতায় শেষ হওয়ার পর অতিরিক্ত সময়ে নাটকীয় মোড় নেয়। জার্মানির তরুণ উইঙ্গার নাথানিয়েল ব্রাউনের চমৎকার এক কর্নার কিক থেকে উড়ে আসা বলে ডিফেন্ডার জোনাথান টাহ দুর্দান্ত হেডে প্যারাগুয়ের জালে বল পাঠান। জার্মান শিবির যখন কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিতের আনন্দে মাতোয়ারা, ঠিক তখনই ম্যাচ রেফারি অন-ফিল্ড সিদ্ধান্ত রিভিউ করতে ভিএআরের সহায়তা নেন। ভিডিও রিপ্লেতে দেখা যায়, গোলটি হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে জার্মানির আরেক ফুটবলার ভালডেমার আন্টন প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক রলান্দো হিলকে আলতো করে ধাক্কা দিয়ে গোল লাইনের সামনে ফেলে দিয়েছেন। স্পর্শটি অত্যন্ত মৃদু হলেও গোলরক্ষককে বাধা দেওয়ার অপরাধে রেফারি গোলটি বাতিল ঘোষণা করেন, যার ফলে শেষ পর্যন্ত টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যায় জার্মানি।
বিশ্বজুড়ে তৈরি হওয়া এই ক্ষোভের জবাবে কলিনা ব্যাখ্যা করেন যে, আধুনিক ফুটবলে ইচ্ছাকৃত সময় অপচয় রোধ করা এবং খেলাকে আরও গতিশীল ও সুন্দর করতে কিছু কঠোর নিয়ম সংযোজন করা হয়েছে। আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বাধা দেওয়ার কৌশল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘যদিও নিজের অবস্থান ধরে রাখা স্বতঃস্ফূর্তভাবে কোনো ফাউল নয়, তবে যখন একজন আক্রমণভাগের খেলোয়াড় বলের প্রতি কোনো আগ্রহ না দেখিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে, সামান্যতম হলেও প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়ের গতিবিধিকে বাধাগ্রস্ত করার স্পষ্ট উদ্দেশ্যে নড়াচড়া করেন এবং তাঁকে ডিফেন্ড করা থেকে বিরত রাখেন, তখন রেফারিদের এবং প্রয়োজনে ভিএআর-এর এই ঘটনা সতর্কতার সঙ্গে বিশ্লেষণ করা উচিত এবং হস্তক্ষেপ করা উচিত।’
কলিনা তাঁর বিবৃতিতে গোলরক্ষকদের সুরক্ষার ওপর বিশেষ জোর দিয়ে উল্লেখ করেন যে, এই ধরনের কৌশলগুলোর মূল লক্ষ্যই থাকে প্রতিপক্ষের গোলরক্ষককে গোল রক্ষা করা থেকে বিরত রাখা। কোচ ও খেলোয়াড়দের টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই এই কঠোর নিয়মগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত অবহিত করা হয়েছিল, তাই রেফারিরা এই ফাউলগুলোর শাস্তি দিলে তা কারো কাছে বিস্ময়কর হওয়া উচিত নয়। একই সঙ্গে আধুনিক ফুটবলের গতি, শৃঙ্খলা এবং সময় অপচয় রোধে ফিফার নেওয়া অন্যান্য পদক্ষেপ—যেমন গোল কিক, থ্রো-ইন এবং খেলোয়াড় পরিবর্তনের সময়সীমা নির্ধারণ এবং চোটাক্রান্ত খেলোয়াড়দের এক মিনিটের জন্য মাঠের বাইরে রাখার নিয়মগুলোর কার্যকারিতা ও সাফল্যের ভূয়সী প্রশংসা করেন ফিফার এই রেফারিপ্রধান।



