― Advertisement ―

জুলাই বিপ্লবের চেতনা ধারণ করেই এগোবে আইন মন্ত্রণালয়; প্রথম দিনেই বড় অঙ্গীকার

বাংলাদেশের বিচারিক ব্যবস্থায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পাহাড় সমান প্রত্যাশার ভার কাঁধে নিয়েছেন নবনিযুক্ত আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। বুধবার সচিবালয়ে তাঁর প্রথম কার্যদিবসে সাংবাদিকদের...

ঘুষ নেওয়ার দায়ে বেবিচক পরিদর্শকের ৫ বছর কারাদণ্ড

পাইলটের বাণিজ্যিক লাইসেন্স নবায়ন এবং পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ করে দেওয়ার নামে এক লাখ টাকা ঘুষ নেওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) জুনিয়র লাইসেন্স পরিদর্শক এইচ এম রাশেদ সরকারকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে এক লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫-এর বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন জনাকীর্ণ আদালতে এই চাঞ্চল্যকর রায় ঘোষণা করেন। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলায় দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে এই দৃষ্টান্তমূলক রায় দেওয়া হলো।

রায়ের আদেশে আদালত ঘুষের ফাঁদ পেতে জব্দ করা এক লাখ টাকা মূল অভিযোগকারী পাইলট প্রার্থীকে ফেরত দেওয়ার স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন। এর পাশাপাশি অপরাধের আলামত হিসেবে আসামির কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া মুঠোফোন, ল্যাপটপ, আইপ্যাড এবং ক্রেডিট কার্ড রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার আদেশ দেওয়া হয়। রায় ঘোষণার সময় জামিনে থাকা রাশেদ সরকার আদালতে উপস্থিত ছিলেন; সাজা পরোয়ানা জারি করে তাঁকে তাত্ক্ষণিকভাবে পুলিশি হেফাজতে কারাগারে পাঠানো হয়। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জহিরুল ইসলাম রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করলেও আসামিপক্ষের আইনজীবীরা এই সাজার বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করার ঘোষণা দিয়েছেন।

মামলার নথির বিবরণ অনুযায়ী, ভুক্তভোগী রাকিব হাসান ২০১৮ সালে বাণিজ্যিক পাইলট (সিপিএল) লাইসেন্সের প্রথম ধাপের ‘এয়ার ল’ পরীক্ষায় সফলভাবে উত্তীর্ণ হন। পরবর্তী ধাপ ‘কম্পোজিট’ পরীক্ষায় অংশ নিতে তিনি ২০১৯ সালের ২ সেপ্টেম্বর নির্ধারিত ফি জমা দিয়ে আবেদন করেছিলেন। তবে অনলাইন ব্যবস্থায় প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে রাশেদ সরকার উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁর আবেদন দুবার বাতিল করেন। পরবর্তী সময়ে পরীক্ষায় বসার সুযোগ করে দেওয়ার বিনিময়ে রাকিবের কাছে এক লাখ টাকা দাবি করা হলে ভুক্তভোগী বিষয়টি দুদককে অবহিত করেন।

অভিযোগের ভিত্তিতে ২০১৯ সালের ৬ ডিসেম্বর রাজধানীর উত্তরার একটি রেস্তোরাঁয় ওত পেতে থাকা দুদকের বিশেষ দল ১ লাখ টাকা ঘুষ নেওয়ার সময় রাশেদ সরকারকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করে। ওই দিনই দুদকের সহকারী পরিচালক তাহসীন মোসাবিল হক বাদী হয়ে উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করেন। তদন্ত শেষে ২০২২ সালের ৬ জুন আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয় এবং ২০২৩ সালের ৬ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে বিচার শুরু হয়। মামলায় মোট ২৪ জন সাক্ষীর মধ্যে ২৩ জনের দীর্ঘ সাক্ষ্য গ্রহণ ও আইনি জেরা শেষে আদালত আজ এই চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করলেন।