পবিত্র ঈদুল আজহার আনন্দ উৎসবের রেশ কাটতে না কাটতেই ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে এক রক্তক্ষয়ী ও ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় শিশুসহ পাঁচজন নিহত হয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার (২৮ মে, ২০২৬) দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার বেদগ্রাম এলাকায় দোলা পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসের সাথে বিপরীত দিক থেকে আসা দ্রুতগতির একটি মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে পিরোজপুর জেলার নাজিরপুর উপজেলার কলারদোয়ানিয়া ইউনিয়নের মুনিরাবাদ গ্রামের একই পরিবারের তিনজন রয়েছেন, যা পুরো এলাকা জুড়ে শোকের ছায়া নামিয়ে এনেছে।
নিহত একই পরিবারের তিন সদস্য হলেন—মুনিরাবাদ গ্রামের আবু হানিফের ছেলে মো. সোহাগ (৩৭), তাঁর স্ত্রী খাদিজা খাতুন (৩৪) এবং তাঁদের একমাত্র সন্তান আরমান (১০)। পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মো. সোহাগ পেশায় একজন কাঠমিস্ত্রি ছিলেন এবং পরিবার নিয়ে ঢাকায় বসবাস করতেন। পবিত্র ঈদের ছুটি কাটাতে স্ত্রী ও সন্তানকে সাথে নিয়ে দোলা পরিবহনের একটি দূরপাল্লার বাসে করে গ্রামের বাড়িতে ফিরছিলেন তাঁরা। কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাসে নিজ জেলা পিরোজপুরে পৌঁছানোর মাত্র কয়েক কিলোমিটার আগেই গোপালগঞ্জের বেদগ্রামে তাঁদের বহনকারী বাসটি এক ভয়াবহ দুর্ঘটনার মুখোমুখি হয়।
হাইওয়ে পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, ঢাকা থেকে পিরোজপুরগামী দ্রুতগতির দোলা পরিবহনের যাত্রীবাহী বাসটি বেদগ্রাম এলাকা অতিক্রম করার সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি অনিয়ন্ত্রিত মোটরসাইকেলের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতা এতটাই মারাত্মক ছিল যে, বাসের সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং মোটরসাইকেলের দুই আরোহীসহ চারজন ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। এ সময় বাসের ভেতরে থাকা সোহাগ ও তাঁর স্ত্রী খাদিজা ঘটনাস্থলেই নিহত হন। পরে স্থানীয় বাসিন্দা ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁদের ১০ বছরের শিশুসন্তান আরমানসহ অন্য যাত্রীদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরমানও মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে।
ভাটিয়াপাড়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রোকনুজ্জামান সড়ক দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, এই মর্মান্তিক সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত মোট পাঁচজনের মৃত্যু নথিভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে পিরোজপুরের একই পরিবারের তিনজন এবং বাকি দুইজন মোটরসাইকেল আরোহী, যাঁদের বাড়ি বাগেরহাট জেলার চিতলমারী উপজেলায়। দুর্ঘটনাকবলিত বাস ও মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করে হাইওয়ে থানায় জব্ধ করা হয়েছে এবং নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য গোপালগঞ্জ জেলা হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। এছাড়া দুর্ঘটনায় আহত আরও ১১ জন যাত্রী বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং এই ঘটনায় একটি নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।



