পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ খাইবার পাখতুনখোয়ার মারদান জেলায় দেশটির বিমানবাহিনীর (PAF) একটি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়ে দুই চালক নিহত হয়েছেন। আজ সোমবার (১৫ জুন, ২০২৬) সকালের দিকে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (ISPR) এক দাপ্তরিক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। নিহত দুই সেনা কর্মকর্তার একজন বিমানবাহিনীর এবং অপরজন নৌবাহিনীর কর্মকর্তা, যা নির্দেশ করে যে এটি একটি যৌথ সামরিক প্রশিক্ষণ মহড়া ছিল।
আইএসপিআর-এর তথ্য অনুযায়ী, নিহত দুই চালক হলেন পাকিস্তান বিমানবাহিনীর ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মুহাম্মদ কাসিম আব্দুল্লাহ এবং পাকিস্তান নৌবাহিনীর লেফটেন্যান্ট তাহা আব্বাসী। তারা একটি নিয়মিত ও রুটিন প্রশিক্ষণ ফ্লাইটের অংশ হিসেবে বিমানটি নিয়ে উড্ডয়ন করেছিলেন। তবে উড্ডয়নের কিছুক্ষণের মধ্যেই কারিগরি বা অজ্ঞাত কোনো ত্রুটির কারণে বিমানটি মারদান জেলার একটি জনবসতিহীন এলাকায় ভূপাতিত হয়। দুর্ঘটনার তীব্রতা এত বেশি ছিল যে, দুই চালকই ঘটনাস্থলে প্রাণ হারান।
দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে এবং এটি কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি নাকি চালকের সীমাবদ্ধতা ছিল, তা খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যে বিমানবাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে আইএসপিআর। এই মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনায় পাকিস্তানের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি, প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং ডিফেন্স স্টাফের প্রধান জেনারেল আসিম মুনির নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে পৃথক শোকবার্তা দিয়েছেন।
পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীতে বিমান বা হেলিকপ্টার বিধ্বস্তের ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে বেশ উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। মাত্র এক সপ্তাহ আগেই যান্ত্রিক গোলযোগের কারণে পাকিস্তানের আজাদ কাশ্মীরে একটি সামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে ২২ জন সেনা কর্মকর্তা ও জওয়ান নিহত হন। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই খাইবার পাখতুনখোয়ায় যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের এই নতুন ঘটনাটি পাকিস্তানের সামরিক এভিয়েশন খাতের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, রক্ষণাবেক্ষণ প্রটোকল এবং যুদ্ধবিমানগুলোর যান্ত্রিক সক্ষমতা নিয়ে আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মাঝে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।



