― Advertisement ―

‘নিষ্প্রভ’ কেইনের কাঁধে সতীর্থদের আস্থার হাত

বুন্ডেসলিগায় গোলের পর গোল করে ইউরোতে খেলতে এসে নিজেকে যেন খুঁজে ফিরছেন হ্যারি কেইন। টুর্নামেন্টে এখনও দেখা যায়নি তার সেরা চেহারা। তবে এনিয়ে একদমই...

দ্য হান্ড্রেড শীর্ষে, তিনে আইপিএল; মাত্র ২২.৬ স্কোর নিয়ে তলানিতে বিপিএল

বিশ্ব ক্রিকেটের ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগগুলোর প্রতিযোগিতায় বাণিজ্যিক ও ব্যবস্থাপনাগত দিক থেকে চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল)। বিশ্ব ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ডব্লিউসিএ) প্রকাশিত সর্বশেষ গ্লোবাল রেটিংয়ে ১০০ নম্বরের মধ্যে মাত্র ২২.৬ পেয়ে তালিকার তলানিতে অবস্থান করছে বাংলাদেশের এই শীর্ষ টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট। মূল্যায়নে অন্তর্ভুক্ত বিশ্বের প্রধান ১০টি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের মধ্যে বিপিএলের এই স্কোরই সর্বনিম্ন। খেলোয়াড়, নিবন্ধিত এজেন্ট এবং বিভিন্ন দেশের ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রত্যক্ষ মতামতের ভিত্তিতে এই তুলনামূলক বৈশ্বিক সূচক প্রস্তুত করেছে খেলোয়াড়দের আন্তর্জাতিক এই সংগঠনটি। আজ সোমবার (১৫ জুন, ২০২৬) ডব্লিউসিএ-এর অফিশিয়াল রিপোর্টে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়।

ডব্লিউসিএ-এর এই বৈশ্বিক মূল্যায়নে শীর্ষস্থান দখল করেছে ইংল্যান্ডের ভিন্নধর্মী শতবলের টুর্নামেন্ট ‘দ্য হান্ড্রেড’। নান্দনিক ব্যবস্থাপনা ও আর্থিক স্বচ্ছতার কারণে তারা ১০০-তে সর্বোচ্চ ৭৫.২ নম্বর পেয়েছে। তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ ‘এসএ২০’ (SA20), যাদের প্রাপ্ত নম্বর ৬৮। বিশ্ব ক্রিকেটের সবচেয়ে জমকালো ও ব্যয়বহুল টুর্নামেন্ট ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) ৬২.৬ নম্বর নিয়ে তালিকার তৃতীয় স্থানে অবস্থান করছে। আইপিএলের চেয়েও প্রায় ৪০ নম্বর পিছিয়ে থাকা বিপিএলের এই অবস্থান প্রমাণ করে যে, টুর্নামেন্টটি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার ও ক্রিকেট সংগঠকদের আস্থা সম্পূর্ণ হারিয়েছে।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারদের সংগঠন ডব্লিউসিএ-এর সভাপতি ও সাবেক অস্ট্রেলীয় অধিনায়ক লিসা স্টালেকার বিপিএলের এই নজিরবিহীন পতনের কারণ স্পষ্ট করেছেন। তাঁর মতে, বিপিএলে বিদেশি তারকা ক্রিকেটারদের আকৃষ্ট করতে হলে টুর্নামেন্টটির সার্বিক অবকাঠামোগত মান বাড়ানোর পাশাপাশি পারিশ্রমিক সংক্রান্ত জটিলতা ও দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনা জরুরি ভিত্তিতে দূর করতে হবে। লিসা স্টালেকার বলেন, “ক্রিকেটাররাও পেশাদার কর্মী এবং চুক্তি অনুযায়ী মাঠের দায়িত্ব পালন করা মাত্রই তাঁদের পারিশ্রমিক পরিশোধ করা উচিত। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, বিপিএলের অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো খেলোয়াড়দের অর্থ প্রাপ্তির চরম অনিশ্চয়তা।”

বাস্তবিকভাবেই, বিগত কয়েক আসর ধরে বিপিএলের ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো পারিশ্রমিক ইস্যুতে একাধিক বড় বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ক্রিকেটারদের সাথে কাগজে-কলমে বড় অঙ্কের চুক্তি করলেও টুর্নামেন্ট শেষে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর অর্থ পরিশোধ না করার প্রবণতা বৈশ্বিক মঞ্চে বিপিএলের ভাবমূর্তি নষ্ট করেছে। উদাহরণস্বরূপ, ২০২৫ আসরে সঠিক সময়ে পারিশ্রমিক না পেয়ে রাজশাহী ফ্র্যাঞ্চাইজির ক্রিকেটাররা অনুশীলন বয়কট করেছিলেন। এছাড়া চিটাগং এবং সদ্য সমাপ্ত আসরে সিলেট টাইটানসের পারিশ্রমিক বকেয়া রাখার ঘটনাগুলো আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি করে। ডব্লিউসিএ মনে করে, নির্দিষ্ট আর্থিক কাঠামো ও কঠোর জবাবদিহিতা নিশ্চিত না করলে বিপিএল অদূর ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক সূচি থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে।