সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় ভাইভার নম্বর বাড়ানোর তীব্র সমালোচনা করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এমপি। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, “কোটা আন্দোলন শেখ হাসিনাকে দিল্লিতে পাঠিয়েছে; ভাইভার নম্বর বাড়ানোর পরিণতি আপনাদের কোথায় নিয়ে ফেলবে, তা টেরও পাবেন না।”
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বিকেলে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) কীর্তনখোলা হলে জাতীয় ছাত্রশক্তি আয়োজিত ‘বৈষম্যহীন বাংলাদেশ বিনির্মাণে তারুণ্যের রাজনৈতিক ভাবনা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ভূমিকার প্রশংসা করে নাহিদ বলেন, “আন্দোলনে সমানতালে লড়াই চালিয়ে গিয়েছিল বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়। এর জন্য আমরা কৃতজ্ঞ।” বর্তমান সামাজিক প্রেক্ষাপট নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে তিনি বলেন, দেশে এখন আশির দশকে ফিরে যাওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। পুরো পৃথিবী যেখানে দ্রুত এগোচ্ছে, সেখানে বাংলাদেশকে কোনোভাবেই পিছিয়ে যেতে দেওয়া যাবে না।
বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রিক উন্নয়ন নীতির তাগিদ দিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, গণঅভ্যুত্থানের মূল শক্তি ছিল বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। তাই এগুলো নিয়ে বিশেষ রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনা প্রয়োজন। বিগত সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, আগের আমলে দলীয় লোকদের চাকরি দেওয়ার জন্য জেলায় জেলায় বিশ্ববিদ্যালয় খোলা হয়েছিল। এখনও সংসদে একই চর্চা দেখা যাচ্ছে, যেখানে একের পর এক নতুন বিশ্ববিদ্যালয় চাওয়া হচ্ছে। পুরনো পথে না হেঁটে বরং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।
বিসিএস ও অন্যান্য সরকারি চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ভাইভার নম্বর ৪০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাবনার নিন্দা জানান এনসিপি প্রধান। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ক্ষমতায় আসার আগে এই সরকারের নীতি নির্ধারকরাই ভাইভার নম্বর কমানোর পক্ষে কথা বলেছিলেন। কিন্তু এখন তারা পুরোপুরি উল্টো পথে হাঁটছেন। অংশীজনদের সাথে আলোচনা ছাড়া হুট করে এমন রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত না নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
জাতীয় ছাত্রশক্তি ববি শাখার আহ্বায়ক মোহাম্মদ বেলালের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন এনসিপির উত্তরাঞ্চলীয় প্রধান সমন্বয়ক সারজিস আলম, যুগ্ম আহ্বায়ক সরোয়ার তুষার ও কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব ডা. মাহমুদা আলম মিতু। অনুষ্ঠান শেষে ‘জুলাই ৩৬’ কুইজ প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।



