― Advertisement ―

ভারতের সঙ্গে চুক্তির প্রতিবাদে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনে ছাত্র জোটের বিক্ষোভ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে রেল কানেকটিভিটি বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা চুক্তির প্রতিবাদে পুলিশের বাধা অতিক্রম করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে...

কালো টাকা সাদা করার বিধান প্রত্যাহারসহ বাজেটে বড় সংশোধনীর প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর

বাংলাদেশের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে সাধারণ মানুষের করের বোঝা লাঘব, কালো টাকা সাদা করার বিতর্কিত সুযোগ পুরোপুরি বাতিল এবং দেশীয় শিল্প ও বেসরকারি উচ্চশিক্ষার প্রসারে একগুচ্ছ যুগান্তকারী ও জনবান্ধব সংশোধনী প্রস্তাব পেশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে বিগত স্বৈরাচারী শাসন ব্যবস্থার অবসান ঘটিয়ে দেশের ভঙ্গুর অর্থনৈতিক খাতে কঠোর শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং বিদেশে পাচার হওয়া লাখো কোটি টাকা দ্রুত দেশে ফেরত আনার বিষয়ে সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন তিনি। বর্তমান সরকারের এই বাজেটকে একটি ‘জাতি পুনর্গঠনের বাজেট’ হিসেবে অভিহিত করে দেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারি ও বিরোধী—উভয় পক্ষকে জাতীয় সংসদে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান সরকারপ্রধান। আজ সোমবার (২৯ জুন, ২০২৬) জাতীয় সংসদে বাজেট অধিবেশনের সমাপনী আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এই ঐতিহাসিক আহ্বান জানান।

সংসদ নেতার বক্তব্যে দেশের অর্থনীতিকে স্বৈরাচারের উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া একটি ধ্বংসপ্রাপ্ত অবস্থার সঙ্গে তুলনা করা হয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত দুঃশাসনের কারণে বিশেষ করে দেশের পুঁজিবাজার এবং ব্যাংকিং খাতে জনগণের মধ্যে গভীর অনাস্থা ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছিল। অতীতের অন্ধকার সময়ে পুঁজিবাজারে কারসাজির কারণে নিঃস্ব হয়ে অসহায় মানুষের আত্মহত্যার মতো মর্মান্তিক ঘটনাও ঘটেছে, যা বিশ্ব ইতিহাসে বিরল। বর্তমান সরকার এই পুঁজিবাজারকে দীর্ঘমেয়াদি ও নিরাপদ বিনিয়োগের একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তোলার মহাপরিকল্পনা নিয়েছে, যার ইতিবাচক প্রতিফলন যোগ্য অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে দ্রুতই দৃশ্যমান হবে। পাশাপাশি ব্যাংকিং সেক্টরে যেকোনো মূল্যে প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এবং খেলাপি ঋণের সংস্কৃতি বন্ধ করতে সরকার সব ধরনের আইনি ও প্রশাসনিক উদ্যোগ গ্রহণ করছে।

দেশের মানুষের পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সংসদকে আশ্বস্ত করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানান, এরই মধ্যে বিশ্বের ১৩টি দেশে ২৩টি ‘মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিসটেন্ট রিকোয়েস্ট’ (MLAR) পাঠানো হয়েছে। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত ১৫টির বেশি ব্যাংক আন্তর্জাতিক সম্পদ পুনরুদ্ধার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ৬০টিরও বেশি ‘নন-ডিসক্লোজার অ্যাগ্রিমেন্ট’ (NDA) স্বাক্ষর করেছে, যার মাধ্যমে পাচারকৃত সম্পদ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে। রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে করের বোঝা না বাড়িয়ে, করদাতাদের হয়রানি কমিয়ে এবং করের ভিত্তি সম্প্রসারণের নীতি গ্রহণের কথা বলেন তিনি। কর ব্যবস্থাকে আধুনিক ও জনবান্ধব করতে ব্যক্তি করদাতাদের করমুক্ত আয়ের সীমা আগামী কর বছরগুলোতে পর্যায়ক্রমে ৪ লাখ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত উন্নীত করার সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া জমি রেজিস্ট্রেশনের ক্ষেত্রে জনমনে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ সংক্রান্ত যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল, জনগণের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে সেই প্রস্তাবিত বিধান সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করার জন্য অর্থমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।

শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং ডিজিটাল খাতের বিকাশে প্রধানমন্ত্রী বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ কর ছাড়ের প্রস্তাব দেন। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওপর প্রযোজ্য ১০ শতাংশ কর হ্রাস করে ৫ শতাংশ করার পাশাপাশি গরিব ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের বিনা বেতনে পড়ার সুযোগ এবং গবেষণা জোরদার করার আহ্বান জানান তিনি। জনমনে বিভ্রান্তি দূর করতে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা বা সম্পত্তি মিউটেশনের ক্ষেত্রে ‘টিন’ (TIN) দাখিলের প্রস্তাবিত বাধ্যবাধকতা প্রত্যাহারের অনুরোধ জানান। অন্যদিকে তরুণ ফ্রিল্যান্সারদের জন্য বাজেটে প্রথমবারের মতো ৫০০ কোটি টাকার স্টার্টআপ ফান্ডিংয়ের প্রশংসা করার পাশাপাশি ওটিটি প্ল্যাটফর্ম, সোশ্যাল মিডিয়া ও সার্চ ইঞ্জিনে বিজ্ঞাপনের ওপর আরোপিত ১৫ শতাংশ ভ্যাট কমিয়ে ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করেন তিনি, যাতে ব্যবসায়ীরা হুন্ডির মতো অনানুষ্ঠানিক মাধ্যম পরিহার করে বৈধ চ্যানেলে অর্থ পরিশোধে উৎসাহিত হন। পাহাড়ি ও সমতল উভয় অঞ্চলের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীভুক্ত ব্যক্তিদের বেতনভোগী আয় ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে সম্পূর্ণ করমুক্ত করার প্রস্তাবও দেন তিনি।

দেশীয় শিল্পের সুরক্ষায় চিংড়ি চাষের খাদ্য আমদানিতে সমুদয় শুল্ক ও ভ্যাট প্রত্যাহার, ওষুধ শিল্পের মধু আমদানির সম্পূরক শুল্ক হ্রাস এবং পিভিসি ও পেট রেজিন আমদানির শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া ফায়ার ডোর, বৈদ্যুতিক তার উৎপাদন এবং ক্যাশনাট প্রসেসিং শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে রেগুলেটরি শুল্ক ও কাস্টম শুল্ক ব্যাপকভাবে হ্রাসের আহ্বান জানান। রাষ্ট্র পরিচালনায় সুশাসন ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতার ওপর গুরুত্বারোপ করে সুপ্রিম কোর্টকে অতিরিক্ত ১০০ কোটি টাকা এবং আইন মন্ত্রণালয়কে আরও ৫০০ কোটি টাকা অতিরিক্ত বরাদ্দ দেওয়ার অনুরোধ জানান তিনি। বক্তব্যের শেষপর্যায়ে বিরোধীদলীয় নেতার একটি জনবান্ধব প্রস্তাবের পরিপ্রক্ষিতে পরিবেশবান্ধব ও গরিবের বাহন হিসেবে পরিচিত সাইকেলের ওপর থেকে সব ধরনের শুল্ক প্রত্যাহারের তাৎক্ষণিক নির্দেশনা দেন সংসদ নেতা। সবশেষে ‘জুলাই সনদ’-কে সামনে রেখে সংবিধান সংশোধনসহ দেশের ভবিষ্যৎ পথরেখায় একটি ন্যায়ভিত্তিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তোলার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।